গণতন্ত্রের এ লজ্জা ঢাকবে কীভাবে বিজেপি? ভক্তির কী  নমুনা রামভক্তদের! শেষপর্যন্ত ধনুর্ধর রামচন্দ্রের মহিমায় নরেন্দ্র মোদি?  মাথায় রাজমুকুট, হাতে ধনুক-বাণ, মুখে মৃদু হাসি, রামরূপী অবতার মোদি। এমনই একটি মস্ত কাট আউট দিল্লি প্রেস ক্লাবের ভেতরে। সামনে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। আর তা নিয়ে তুমুল হইচই। নিন্দার ঝড়। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রেস ক্লাব এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেছে কি? বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকের নামে ‘মোদি চালিশা’ পাঠ। সঙ্গে ধূপ-ধুনো, প্রদীপ আর আরতি। ভক্তির কেন্দ্রীয় চরিত্রে প্রধানমন্ত্রী। সমস্বরে ধ্বনি উঠল-‘হর হর মোদি’। গণতন্ত্রের চরম অবমাননার সব আয়োজনই সারা। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীকে দেবতা বানিয়ে এমন রামরূপ দেওয়ার নেপথ্যে বিজেপির কোন অঙ্ক? আসল মতলবটাই বা কী? রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে এভাবে গুলিয়ে দেওয়া কী গণতন্ত্রের লজ্জা নয়? সাংবাদিকদের ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের নাম করে  এমন ভজন-সন্ধ্যা বসে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকেই। সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। 

কিন্তু কেন এমন হাস্যকর কাণ্ড? নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ল কে বা কারা? উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে উৎসর্গ করে নাকি একটি মন্দির নির্মাণ হচ্ছে। এই অভিনব আয়োজন সেই মন্দিরের প্রচার করতেই। কিন্তু এর যৌক্তিকতা মেনে নিতে পারছেন না কোনও সুস্থবুদ্ধির মানুষই। সবচেয়ে বড় কথা, সমস্ত বিষয়টাকে ঘিরেই একটা রহস্যের জাল। তবে সমাজমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ১১২ কোটি টাকা খরচ করে বিহারে গড়ে তোলা হচ্ছে মোদি-মন্দির। এরজন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ একর জমি। আসলে মাত্রা ছাড়িয়েছে অন্ধ ভক্তি। লক্ষণীয়, এর আগেও দিল্লির দুর্গাপুজোয় দেবী প্রতিমার পাশে মোদির ছবি রাখার পরামর্শকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। সেই সময়ের প্রধান বিচারপতির বাড়িতে গণেশ পুজোয় মোদির উপস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।