রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাঁদের সংসদীয় এলাকার কী ভাবে উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনই দাবি করলেন এনসিপিআই সাংসদেরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছাড়াও মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বঙ্গভবনের বৈঠকে মোট ২২ জন সাংসদ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ১৯ জন এনসিপিআই সাংসদ ছিলেন। এ ছাড়াও বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলত্যাগী রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। যদিও বৈঠক শেষে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী জানান, এনসিপিআই বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও আলোচনা হয়নি। মূলত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বৈঠক খুব ভাল হয়েছে। ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠক করব।’’
বৈঠক শেষে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এটি দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া থাকা একটি বৈঠক ছিল, যা আজ সম্পন্ন হল। নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের মনের মধ্যে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে আমাদের দিকনির্দেশ করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাতে আমরা ভীষণ খুশি।”
এলাকায় রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের বিষয়ে রচনা বলেন, “কোনও মানুষ যাতে কষ্টে না থাকেন এবং এলাকা ছেড়ে না থাকেন, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। উনি আমাদের বলেছেন, মানুষকে নির্দ্বিধায় এবং ভয় না পেয়ে এগিয়ে যেতে বলতে। মানুষের পাশে থাকতে বলেছেন এবং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশেই রয়েছে।”
অন্য দিকে, সাংসদ বাপী হালদার জানান, এলাকার কোনও যোগ্য মানুষ সরকারি সামাজিক সুরক্ষা বা প্রকল্পের সুবিধা থেকে যাতে বাদ না পড়েন, তা সাংসদেরা সরাসরি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। প্রশাসনিক জটিলতা বা আর্থিক বিষয়ের মতো সমস্যাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বৈঠকটিকে “অত্যন্ত সফল ও গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করেছেন সাংসদ জুন মালিয়াও। তিনি জানান, নিজ নিজ এলাকার কাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস মিলেছে। তবে বৈঠক প্রসঙ্গে খানিকটা মেপে পদক্ষেপ করতে দেখা যায় রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়কে। নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বৈঠকটিকে নিতান্তই একটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে জানান। তাঁর দাবি, বৈঠকে মূলত লোকসভা ও রাজ্যসভা কেন্দ্রগুলির উন্নয়নমূলক কাজের রূপরেখা নিয়েই চর্চা হয়েছে।
















