নির্লজ্জ ও নির্মম! নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) ছুড়েছিল পেলেট। এবার সেই পেলেট ডান চোখের মণিতে এসে বিঁধেছে এক আন্দোলনকারীর। এর ফলে দৃষ্টি হারাতে বসেছেন উনিশ বছরের নিট-আন্দোলনকারী সাহিল লোচাব (Sahil Lochab)। দক্ষিণ দিল্লির নাজাফগড়ের (Najafgarh in South Delhi) বাসিন্দা সাহিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Delhi) ‘স্কুল অফ ওপেন লার্নিং’-এর ছাত্র। পুলিশ হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি কিন্তু সেই পুলিশের ছোড়া পেলেটেই জখম হলেন তিনি।
২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Education Minister Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) ডাকে সংসদ অভিযানে অসংখ্য পড়ুয়া শামিল হয়েছিলেন। সাহিলের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তিনি। ২১ জুলাই এইমস ট্রমা সেন্টারে সাহিলের চোখে অস্ত্রোপচার হয় এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর চোখের মণি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কিছুদিনের মধ্যেই আরও একটি অস্ত্রোপচার হবে।
আশ্চর্যজনকভাবে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, তারা পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহার করেনি। কিন্তু এইমস-এর দাবি, সাহিলের চোখে অস্ত্রোপচারের সময়ে ধাতব পেলেট পাওয়া গিয়েছে। তাছাড়া সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ব্যবহার করা অস্ত্রের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সাহিল একা নয়, শেখ এরশাদ মনসুরি নামে আরও এক আন্দোলনকারী পেলেটের আঘাতে জখম হয়েছেন বলে খবর। তাঁর পরিবারেরও দাবি, ২৫ বছরের এরশাদের চোখে পেলেট বিঁধেছে। লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় এরশাদ জানিয়েছেন যন্তর মন্তরের সামনে দিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হাঁটার সময়ে লাঠিচার্জ করতে শুরু করে দিল্লি পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসও ছোড়ে যার ফলে চোখ জ্বলতে শুরু করে। কিছুক্ষণের জন্য অনেকেই ব্ল্যাকআউটও হয়ে যায়। পুলিশকর্মীদের হাতজোড় করে অনুরোধ করা হয়েছিল তাঁরা দেশের নাগরিক, সন্ত্রাসবাদী নয়। কিন্তু তারপরেই ব়্যাফের একজন এসে বন্দুক তাক করে সত্যি সত্যিই গুলি চালিয়ে দেয়।
প্রাণহানি না করে যাতে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা যায়, তার জন্যই পেলেট গানের ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে উত্তাল জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) বিক্ষোভকারী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এর ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। সেই সময়ে অভিযোগ ওঠে, বাহিনী যথেচ্ছ ভাবে ছররা ছোড়ায় আহত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বহু কাশ্মীরি যুবক। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছররা বিঁধে অনেকেই মারা গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত হয়, বুঝেশুনে এই বন্দুক ব্যবহার করতে হবে। বলা হয়, কারও চোখে-মুখে একেবারেই নয়, ডিফ্লেক্টর লাগানো বন্দুক থেকে পেলেট যেন কারও কোমরের উপরে না লাগে। এরপরেই দিল্লির ঘটনা সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















