দেশ জুড়ে উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও অসন্তোষের আবহ যেন কিছুতেই কাটছে না। নিট বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার ইউজিসি নেট পরীক্ষায় বড়সড় বিভ্রাটের ঘটনা সামনে এল। জুন সেশনের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলত্রুটি ও মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় ইংরেজি, বাণিজ্য (কমার্স) এবং সমাজতত্ত্ব (সোশ্যিয়োলজি)— এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা সরাসরি বাতিল ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই তিনটি বিষয়ের পুনর্পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে সংস্থার তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা শেষের পর থেকেই ওই তিন বিষয়ের প্রশ্নপত্রের মান ও ভুল নিয়ে পরীক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। জমা পড়তে থাকে অসংখ্য অভিযোগ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এনটিএ। কমিটির জমা দেওয়া অনুসন্ধান রিপোর্টে প্রশ্নপত্র তৈরিতে চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নপত্রে প্রখ্যাত গবেষক ও তাত্ত্বিকদের নামে মারাত্মক বানান ভুল ছিল। একাধিক ক্ষেত্রে বিশিষ্ট গ্রন্থের নাম ভুল এবং অস্পষ্ট ভাবে লেখা হয়েছিল। এ ছাড়া মূল প্রশ্নের গঠনগত ত্রুটি, ব্যাকরণ ও লিঙ্গ-বচনের অসঙ্গতি এবং যথেচ্ছ ভুল যতিচিহ্নের ব্যবহারের মতো বিষয় ধরা পড়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে বিকৃত করে মনগড়া শব্দ বসানো এবং বিগত বছরগুলির প্রশ্নপত্র থেকে হুবহু বিপুল সংখ্যক প্রশ্ন তুলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এনটিএ জানিয়েছে, ভুলের বহর এতটাই বেশি যে কেবল উত্তরপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে কয়েকটি প্রশ্ন বাদ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। এতে পরীক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা হতো। তাই সার্বিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম অর্ধে (সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা) ইংরেজির এবং দ্বিতীয় অর্ধে (বিকেল ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাণিজ্যের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পর দিন, ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম অর্ধে অনুষ্ঠিত হবে সমাজতত্ত্বের পরীক্ষা। এই পুনর্পরীক্ষায় বসার জন্য পরীক্ষার্থীদের বাড়তি কোনও ফি দিতে হবে না। পরীক্ষার শহর, নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও নতুন অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য শীঘ্রই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
তবে এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের প্রভাব বাকি বিষয়গুলির ওপর পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে এনটিএ। বাকি ৮৪টি বিষয়ের ফল নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই প্রকাশ করা হবে এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (জেআরএফ), সহকারী অধ্যাপক পদের যোগ্যতা ও পিএইচডি ভর্তির ই-শংসাপত্র দেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও যথাসময়ে চলবে। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
















