স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ওডিশার বালাসোরে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক শিক্ষকের এবং এদিনের ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন তিন পড়ুয়া। শুক্রবার ওড়িশার একটি বেসরকারি স্কুলে প্রিয়ব্রত বেহেরা নামে স্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার মাঝেই হল বিপত্তি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সকলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ তৈরির কাজ চলাকালীন প্রিয়ব্রত পতাকা তোলার স্ট্যান্ডে লোহার পাইপ বসানোর চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ লোহার পাইপ উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে ঠেকে যায়। নিমেষের মধ্যে বিদ্যুতের শক লেগে তাঁর মৃত্যু হয়। শিক্ষককে বিপদে দেখে বাঁচাতে যান তিন পড়ুয়া। যার ফলে তারাও গুরুতর জখম হন। সকলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন। আপাতত বাকিদের সেখানেই চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্কুলের এক কর্মী জানিয়েছেন, পতাকার স্ট্যান্ড বসানোর সময় সেটির ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল এবং সেটি ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের দিকে পড়ে যায়। বলেন, “প্রিয়ব্রত ও আমি যখন পতাকার স্ট্যান্ড বসাচ্ছিলাম, তখনই ঘটনাটি ঘটে। আমরা সেটির ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারিনি এবং সেটি কিছুটা দূরে থাকা এলটি (LT) বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গিয়ে পড়ে। চোখের পলকেই সব ঘটে যায়।'' শিক্ষককে প্রথমে সিমুলিয়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ভদ্রক জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, প্রিয়ব্রতর বাবা জ্ঞানেন্দ্র বেহেরা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর ছেলে প্রথমে স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক থাকলেও তাকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি নাকি ছেলের সাথে দেখাও করতে পারেননি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁকে স্কুলে যেতে বলা হয়েছিল কারণ তাঁরা গরিব এবং আয়ের একটা উৎসের প্রয়োজন ছিল। তাঁর অভিযোগ, স্কুল কতৃপক্ষ প্রিয়ব্রতকে ডেকে খুন করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার পর প্রশ্নের মুখে স্কুলে নিরাপত্তা।
















