পেঁয়াজের চড়া দামে কার্যত নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কৃষি মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিন মাসের ব্যবধানে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে দেশের বহু বাজারে খুচরো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। এদিকে সামনেই উৎসবের মরশুম। তার আগে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক। সরকারি সূত্রের দাবি, উৎসব শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত জোগান বজায় রেখে কীভাবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা নিয়েই চলছে পর্যালোচনা কিন্তু বাস্তবে সেটা কতটা ফলপ্রসূ হবে সেই নিয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

কেন আচমকা পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়ল? কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রাথমিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে একাধিক কারণ। দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য মহারাষ্ট্রের কয়েকটি এলাকায় অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফলন। এর পাশাপাশি বেশ কিছু অঞ্চলে পেঁয়াজের ফসলে পোকার আক্রমণের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। কর্নাটক থেকেও বাজারে সরবরাহ কমেছে। তার উপর নতুন খারিফ ফসল বাজারে আসতে দেরি হওয়ায় তৈরি হয়েছে জোগানের ঘাটতি। আর তারই প্রভাব পড়েছে দামে। কৃষি মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জুন দেশের অধিকাংশ রাজ্যে পেঁয়াজের গড় পাইকারি দর ছিল কেজিপ্রতি ২২ টাকা ৬০ পয়সা। ১০ সেপ্টেম্বর সেই দর বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ টাকা ২০ পয়সায়। ১৭ সেপ্টেম্বরও পাইকারি দর ছিল প্রায় ৪৫ টাকা ৬৮ পয়সা। অর্থাৎ তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত দাম কমাতে সরকারের হাতে থাকা বাফার স্টক কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উৎসবের মরশুম শুরুর আগে বাফার স্টকের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি প্রায় ৩৫ টাকা দরে বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় কিনা, সেই সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। এখন নজর, উৎসবের মরশুমের আগে সরকারি পদক্ষেপে বাজারে পেঁয়াজের জোগান বাড়ে কিনা এবং তার প্রভাব পড়ে কিনা খুচরো দামে।