রক্ষকই যখন ভক্ষক! ফরিদাবাদে এটিএম থেকে টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচজনকে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ধৃতদের মধ্যে একজন দিল্লি পুলিশের কর্মী। সূত্রের খবর, দু’টি এটিএম থেকে ১২ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনায় ওই পুলিশ কনস্টেবল-সহ পাঁচ জনকে ফরিদাবাদ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন গোটা ঘটনার মাস্টারমাইন্ড দিল্লি পুলিশের ওই কর্মী। তাঁর মাথায় মোটা অঙ্কের ঋণের বোঝা থাকায় সেই ঋণ মেটাতেই ফরিদাবাদ এলাকায় ATM-এ লুটের পরিকল্পনা করেন।
এটিএম থেকে লক্ষাধিক টাকা লুট পুলিশকর্মীর!
Sponsored

পুলিশ সূত্রে খবর, হুকাম চাঁদ নামে ওই পুলিশ কনস্টেবল ওই চারজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্যাস কাটার ব্যবহার করে এটিএম মেশিন ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি এবং তাঁর ভাইপো অরবিন্দ দুজনেই ফরিদাবাদের আতালি গ্রামের বাসিন্দা। অন্য তিনজন যদিও বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা। একটি বেসরকারি পেমেন্ট পরিষেবা সংস্থার তরফে জানা গিয়েছে ৩ জুলাই রাতে ভুপানি মোড়ে তাঁদের একটি এটিএম কেটে খোলা হয়। সেখান থেকে চুরি করা হয় প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা। পরে ২৬ জুলাই রাতে একই পদ্ধতি অবলম্বন করে সেক্টর-৫৮-এর আর একটি এটিএম থেকে ৫ লক্ষ ৭১ টাকা চুরি করা হয়। এরপরেই তদন্তে নেমে পুলিশ এক হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। অবশেষে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গিয়েছে।
জেরায় জানা যায় গোটা ঘটনার পরিকল্পনার মাথায় ছিলেন ওই পুলিশ কর্মী। ফরিদাবাদের এসিপি (ক্রাইম) আমন যাদব এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণে দেনা আছে এই কনস্টেবলের তাই ভাইপোকে নিয়ে এটিএম লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি। কোন এটিএম লুট করা হবে সেটাও তিনিই ঠিক করেন। পরে বিহারের ওই সঙ্গীদেরকে সেই কথা জানিয়ে এটিএম কাটার জন্য সরঞ্জাম ব্যবস্থা করেন। হুকাম চাঁদ ২০১৬ সাল থেকে দিল্লি পুলিশে কর্মরত। বেসরকারি সংস্থার এটিএমে রাতে যে নিরাপত্তা থাকবে না সেই বিষয়ে সবকিছু জেনেই সেখানে এই লুট করা হয়। চুরির ঘটনার পর পুলিশকে এড়ানোর উদ্দেশ্যে রাজু বিহারে ফিরে যান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় তিনি গ্রেফতার হন এবং এই মুহূর্তে বিহারের একটি সংশোধনাগারে বন্দী রয়েছেন। প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তাঁকে ফরিদাবাদে নিয়ে আসা হবে। আপাতত অভিযুক্তদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













