বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় উলটপুরাণ। বিজেপির দীর্ঘ তিন দশকের অটুট দুর্গে ধাক্কা দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন তিনি। ৩১ রাউন্ড গণনার শেষে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে হারিয়ে বিধানসভায় খাতা খুলল পিকের দল। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিজয়ী প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২০৩টি ভোট। অন্যদিকে বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পেয়েছেন ৪৪ ২৫০টি ভোট। আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী দৌড় থেকে ছিটকে গিয়ে পান মাত্র ১৪ হাজার ৮৫টি ভোট। পিকের এই অপ্রত্যাশিত জয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, বাঁকিপুরের জনগণ জন সুরাজকেই বেছে নিয়েছেন। জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে প্রশান্ত কিশোরকে আন্তরিক অভিনন্দন। 

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা নীতীন নবীন। ফলে খালি হওয়া এই বাঁকিপুর আসনে গত ৩০ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে লড়াইয়ের শুরুতেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে চরম নাটকের সাক্ষী থাকে গেরুয়া শিবির। প্রথমে অভিষেক বান্টিকে টিকিট দিলেও, মনোনয়ন জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে সরিয়ে নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। 

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসনটি কার্যত বিজেপির ‘পারিবারিক দুর্গ’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। তৎকালীন পাটনা পশ্চিম কেন্দ্রে ১৯৯৫ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা বিধায়ক ছিলেন নীতীনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহা। তাঁর প্রয়াণের পর ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে এ দিন পর্যন্ত আসনটি নিজের কবজাতেই রেখেছিলেন নীতীন নবীন। 

গত নভেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়াই করেও শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল পিকের দলকে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিজেপির এই অপ্রতিরোধ্য দুর্গে পিকের ঐতিহাসিক জয় বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।