পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা সংঘাত এবং সার্বিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাণিজ্য থেকে শুরু করে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় তার কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদ ভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সংসদ ভবনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, জে পি নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলির উচ্চপদস্থ আমলারাও অংশ নেন।
বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালী, লোহিত সাগর, কৃষ্ণ সাগর এবং এডেন উপসাগরের মতো আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলির বর্তমান অবস্থা। এই অঞ্চলগুলিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার যে বড়সড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারতে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের মতো অতি প্রয়োজনীয় জরুরি পণ্যের জোগানে যাতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রক কী কী আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা সরাসরি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
আসন্ন রবি মরসুমের চাষাবাদের বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের সারের চাহিদা মেটাতে বিকল্প আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আমদানির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সারের সরবরাহ যাতে কোনো অবস্থাতেই থমকে না যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশকে পুরোপুরি আত্মনির্ভর করে তুলতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা রিনিউয়েবল এনার্জির ব্যবহার ও প্রসার বাড়ানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে আটকে থাকা বা কর্মরত ভারতীয়দের পাশাপাশি বিপজ্জনক সমুদ্রপথে নিয়োজিত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও মোদি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, সঠিক সময়ে তথ্য প্রদান, জরুরি আর্থিক বা অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো এবং মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিংয়ের জন্য একটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা অবিলম্বে গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকার সমস্ত মন্ত্রককে সঙ্গে নিয়ে সম্পূর্ণ সমন্বিত উপায়ে এই সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে বলে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
















