দিল্লিতে গত ২০ মে ককরোচ পার্টির সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের পদক্ষেপকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) পর্যবেক্ষণে নতুন গুরুত্ব পেল। ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) ডাকা ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত প্রতিবাদ দেশের সংবিধান স্বীকৃত একটি অধিকার। আদালতের পর্যবেক্ষণ, "শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিয়ম মেনে প্রতিবাদ সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। কেবলমাত্র প্রতিবাদ হচ্ছে বলেই কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করা যায় না।" অন্যদিকে বিহারে ছাত্র আন্দোলনের সময়  এক পুলিশের হাতে একে-৪৭ দেখা যাওয়ায় তাঁকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। 

শুনানিতে আদালত জানায়, সংসদ অভিযানের দিন পুলিশের (Police) ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত পুলিশকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছিল কি না, সেই বিষয়েও সরকারকে জবাব দিয়ে হবে বলে জানান দেশের শীর্ষ আদালত। আদালতের মন্তব্য, "পুলিশের আচরণ নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। শুধু তাই নয়, যেসব পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত গিয়ারের ব্যবস্থা কেন ছিল না সেটার জবাব দিতে হবে সরকারকে।" 

মামলায় আবেদনকারীদের অভিযোগ, ২০ মে- র কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস (Tear Gas) ব্যবহার করা হয়। কয়েকজন মহিলা আন্দোলনকারীর উপর মারধর এবং কিছু মহিলা বিক্ষোভকারীকে গোপনাঙ্গ লক্ষ্য করে আঘাতও করা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, কিছু পুলিশকর্মীর গায়ে পরিচয়পত্র বা ব্যাজ (Badge) পর্যন্ত ছিল না এবং ঘটনার সমর্থনে অন্তত ১১০টি ভিডিও আছে বলে জানান আইনজীবী (Lawyer)। আবেদনে পুরো ঘটনার তদন্ত, সিসিটিভি (CCTV) ও পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ (Preservation of police body-camera Footage) এবং আহত প্রতিবাদীদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে।

এদিকে বিহারে (Bihar) ছাত্রদের এক বিক্ষোভ চলাকালীন এক পুলিশকর্মীর হাতে একে-৪৭ (AK-47) দেখা যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে সাসপেন্ড (Suspend) করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Leader of the Opposition in the Lok Sabha, Rahul Gandhi)। একই সঙ্গে বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও (Tejashwi Yadav, Leader of the Opposition in Bihar) সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।