নিট বিতর্কের জেরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রহ্লাদ জোশী। কিন্তু চেয়ারে বসার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শাণালেন করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কড়া সুরে বলেন, “যাঁরা ধর্ষকদের রক্ষা করেন, তাঁদের চেয়ে নোংরা আর কেউ হতে পারে না। আর সেই মানুষকেই দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে!” নতুন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই সুর চড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে ২০২২ সালের বিতর্কিত বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলা। সেই সময় গুজরাত সরকার এই মামলার ১১ জন সাজাপ্রাপ্ত দোষীকে আগাম মুক্তি দিলে, প্রহ্লাদ জোশী প্রকাশ্যে রাজ্য সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট গুজরাত সরকারের সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয় এবং ১১ জন দোষীকেই পুনরায় জেলে পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেয়।
সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষুব্ধ রাহুল প্রশ্ন তোলেন, “একদিকে দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণী শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে রাজপথে নেমে মার খাচ্ছে, আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী এমন একজনকে শিক্ষামন্ত্রী করলেন যিনি ধর্ষকদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন! মোদিজির মন্ত্রিসভায় কি আর অন্য কেউ ছিলেন না? এটা সত্যি বিস্ময়কর।”
যদিও কংগ্রেস নেতৃত্বের এই আক্রমণের জবাবে লোকসভার অন্দরে তীব্র প্রতিবাদ জানান নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে তিনি পাল্টা দাবি তোলেন, ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার অপরাধে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সংসদে ক্ষমা চাইতে হবে। জোশীর বক্তব্য, “প্রিয়াঙ্কাজির উচিত ছিল সঠিক তথ্য জেনে বক্তব্য রাখা। এই ধরনের ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য সংসদে পেশ করা যায় না। আমি এই অভিযোগের কড়া বিরোধিতা করছি এবং এর বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
















