নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শুনতে এবং দ্রুত  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে অনুরোধ জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই নিয়ে হেমন্তকে চিঠি লিখলেন রাহুল। চিঠিতে রাহুল গান্ধীর বার্তা, ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর অন্যতম মূল ভিত্তি। সেই কারণেই কংগ্রেস বিগত কয়েক মাস ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আসছে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, দেশের বর্তমান  শিক্ষাব্যবস্থা বিজেপি ও আরএসএসের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং  শিক্ষার্থীদের শোষণ ও নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ১০ বছর আগে যে মজবুত শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল, তা আজ ধ্বংসের মুখে বলে তিনি দাবি করেন।

ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীরাও রাজ্য সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং তাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু  করেছে এবং কয়েকটি বিষয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে পৌঁছাতে পেরেছে। যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে তা  সত্ত্বেও আন্দোলন থমকে যায়নি এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথও বাতলে দিয়েছেন রাহুল।  

আসলে ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের  আন্দোলনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন জোটের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে প্রধান জোটসঙ্গী কংগ্রেস। কয়েক মাস আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে সর্বভারতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্ব সক্রিয়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। এর পরপরই এখন ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশন-এর মাধ্যমে নেওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়েছে। দিল্লির আন্দোলনে ঝাড়খণ্ডের শাসকদলের সঙ্গ দেওয়া কংগ্রেস এখন নিজেদের রাজ্যে হেমন্ত সোরেন সরকারের এই আন্দোলন মোকাবিলা পদ্ধতি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রী সোরেনকে চিঠি পাঠালেন।