ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার তীব্র হল ছাত্র আন্দোলন। একদিকে দাবিদাওয়া নিয়ে বিধানসভার দিকে রওনা দেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা, অন্যদিকে একই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Chief Minister Hemant Soren) বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারাণ্ডি (Former Chief Minister Babulal Marandi), বিজেপি নেতা আদিত্য সাহু-সহ দলের কর্মীরা। পড়ুয়াদের মিছিল নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছনোর আগেই পুলিশ আটকে দেয় বলে অভিযোগ। পরে ফের এগোনোর চেষ্টা হলে জলকামান ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অবস্থানরত বিজেপি নেতাদেরও আটক করে পুলিশ।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থায় বদল আনার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব পড়ুয়ারা। সরকারপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসলেও তাঁদের মূল দাবিগুলি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। সেই অবস্থায় সোমবার কর্মসূচি নিয়ে পথে নামেন তাঁরা। পুরনো বিধানসভা থেকে নতুন বিধানসভা পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মিছিল এগোতে থাকলেও জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Temple) কাছে পৌঁছে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। বিধানসভা চত্বর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করার পর ফের এগোনোর চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। তখনই পুলিশ জলকামান চালায় বলে অভিযোগ তাঁদের।

শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও আন্দোলনে যোগ দেন অনশনরত ছাত্র দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। অ্যাম্বুল্যান্সে করে তিনি মিছিলের কাছে পৌঁছন। গত আট দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ায় তাঁর ওজন প্রায় ১০ কেজি কমেছে বলে আন্দোলনকারীদের তরফে দাবি করা হয়েছে। হাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের ছবি নিয়ে তিনি বিক্ষোভে শামিল হন। পড়ুয়াদের বক্তব্য, তাঁদের দাবি না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্ন নেই। এ দিনের কর্মসূচিতে বিভিন্ন জেলার পড়ুয়া ও অভিভাবকদেরও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষার অভিযোগের তদন্তে সিবিআই চেয়ে হেমন্ত সোরেনের বাড়ির সামনে অবস্থান শুরু করেন বাবুলাল মারাণ্ডিরা। কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাঁদের আটক করে বলে অভিযোগ। বাবুলালের বক্তব্য, পড়ুয়ারা প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করলেও সরকার তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। জেএলকেএম বিধায়ক জয়রামকুমার মাহাতোও সরকারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছেন। তবে রাজ্য সরকারের পাল্টা দাবি, পড়ুয়াদের অধিকাংশ দাবিই ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড এসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি আদালতের নির্দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সরকার নিজের সিদ্ধান্তে তা বাতিল করতে পারে না। মন্ত্রী সুদিব্য সোনুর অভিযোগ, পড়ুয়াদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বিজেপি।