তেলঙ্গানার নলগোন্ডায় (Nalgonda, Telangana) বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কল্লু রুপা রেড্ডি (Headmistress Kallu Rupa Reddy) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তাঁরই স্কুলের দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়া। গত ১২ অগাস্ট কোন্ডামাল্লেপল্লিতে (Kondamallepalli) নিজের বাড়ি থেকে রুপার দেহ উদ্ধার হয়। স্বামী হায়দরাবাদে (Hyderabad) থাকায় ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রতিবেশীকে খোঁজ নিতে বলেছিলেন। পরে বাড়িতে গিয়ে ওই প্রতিবেশীই তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে বেশ কয়েক জন পড়ুয়ার গতিবিধি খতিয়ে দেখে।
বকুনির বদলা! প্রধান শিক্ষিকা খুনে ধৃত ক্লাস টেনের ২ ছাত্র
Sponsored

তদন্তের মোড় ঘোরে রুপার শেষ ফোনালাপ ঘিরে। এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মুখে ‘বাবু’শব্দটি নজরে আসে পুলিশের। স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে রুপার পরিচিতি এবং ওই শব্দের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা একাধিক ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পাঁচ জন দশম শ্রেণির পড়ুয়াকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, কারণ ঘটনার পর থেকেই তারা স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। পরে তাঁদের মধ্যে দুজনের অস্বাভাবিক ভাবে টাকা খরচ এবং বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করার বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। বুধবার ওই দুই ছাত্রকে আটক করার পর জেরায় তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ওই দুই পড়ুয়ার সঙ্গে আগে থেকেই রুপার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের ব্যাগে টাকা ও মোবাইল ফোন পাওয়ার পর প্রধানশিক্ষিকা তাঁদের সতর্ক করেছিলেন এবং অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই ক্ষোভ থেকেই পরে রুপার বাড়িতে টাকা হাতানোর পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে বাড়িটির আশপাশে নজরদারি চালানোর পর ঘটনার দিন সেখানে ঢোকে দুই পড়ুয়া। বাড়িতে রুপা একাই রয়েছেন, সেটাও তারা জানত বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে বেরোনোর সময় রুপা অভিযুক্তদের একজনকে চিনে ফেলেছিলেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপরই তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রুপার দেহে ২৭টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার পর দুই পড়ুয়া টাকা নিয়ে গোয়ায় গিয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১.৫৪ লক্ষ টাকা, একটি আইফোন এবং রুপার মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযুক্তরা নাবালক হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কিশোর বিচারব্যবস্থার অধীনেই হবে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored












