এমন নির্লজ্জ-বেহায়া প্রধান শিক্ষক বোধহয় শুধুমাত্র বিজেপি রাজ্যেই সম্ভব। ভাবা যায়, সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় স্কুলের মধ্যেই মলত্যাগ করে তা পরিষ্কার করতে বাধ্য করে ছাত্রদের! ন্যক্কারজনক এই ঘটনার সাক্ষী বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মাইহার জেলার আমৌরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুধু তাই নয়, মুখে গুটখা নিয়ে যখন তখন বিদ্যালয়ে আসা, ক্লাস না নেওয়া, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সকলে। কিন্তু ভয়ে মুখ খোলেননি কেউই। কিন্তু একদিন মলত্যাগ করে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে দিয়ে তা পরিষ্কার করতে বাধ্য করার পরেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ হয় পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের। তাঁদের অভিযোগ, স্কুল চত্বরকে শৌচালয়ে পরিণত করেছে প্রধান শিক্ষক। গুটখা ফেলে যেখানে সেখানে। মদ্যপ অবস্থায় ক্লাসও নিতে পারে না। কথায় কথায় গালিগালাজ করে, মারধরও করে শিশু পড়ুয়াদের। অভিযোগ, শাসক দলের একাংশের প্রশ্রয়েই ওই প্রধান শিক্ষক বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। উঠেছে নিন্দা এবং সমালোচনার ঝড়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যে শিক্ষকদের প্রধান কর্তব্যই হল ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিক চরিত্র গঠন, তাঁদেরই একজন প্রধান শিক্ষকের নৈতিকতার এমন অকল্পনীয় ঘৃণ্য অধঃপতন? এমনিতেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে শিক্ষাব্যবস্থাকে চূড়ান্ত প্রহসনে পরিণত করেছে দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণ। এর ব্যতিক্রম নয় মধ্যপ্রদেশও। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের এমন অভব্যতা কল্পনারও বাইরে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রধান শিক্ষকের তাণ্ডবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। 

কিন্তু দিনের পর দিন একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমন কাণ্ড- কিছুই জানতে পারেনি রাজ্যের শিক্ষা দফতর? কয়েকজন অভিভাবক বললেন, পড়ুয়াদের ক্ষতির আশঙ্কায় মুখ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। তবে লিখিত অভিযোগ না গেলেও বারবার মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়েছিল শিক্ষা দফতরের পদস্থ অফিসারদের কাছে। কিন্তু সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করেছেন তাঁরা। ফলে আরও পেয়ে বসেছে বেহায়া প্রধান শিক্ষক। শেষপর্যন্ত অবশ্য জনরোষের চাপে পড়ে ওই প্রধান শিক্ষককে শো-কজ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।