বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Prime Minister of Bangladesh Tarique Rahman) সঙ্গে এবার দেখা করলেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী (Indian Ambassador Dinesh Trivedi)। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ (ভারতীয় সময় অনুসারে) বাংলাদেশের সচিবালয়ে দু’জনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় বলে খবর। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার পর তারেকের সঙ্গে এই প্রথম সাক্ষাৎ হল দীনেশের।
তবে এদিনের বৈঠকে তারেক এবং দীনেশের মধ্যে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেই নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) নিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে যে চাপানউতর তৈরি হয়েছে, সেই নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে আশা করাই যায়।
কিছুদিন আগেই জানা যায় বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলা দিল্লির ব্রিক্স সম্মেলনে (Delhi BRICS Summit) যোগ দিতে তারেকের ভারতে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে শেষ মুহূর্তে কোন সমাধানসূত্র পাওয়া নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহল বেশ আশাবাদী। এর মাঝেই দীনেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিনা, সেটা জানা যায়নি। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সমাজমাধ্যমে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর তরফে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সরকার এবং সে দেশের জনগণের সঙ্গে যৌথ ভাবে ইতিবাচক, গঠনমূলক কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।” সূত্রের খবর, দীনেশের সঙ্গে বৈঠকে হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি তোলেন তারেক। এই বৈঠকের পরে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ব্রিক্স সম্মেলনে তারেক যোগ দেবেন কিনা, সেই বিষয়ে এখনই কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্য দিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকের পর দীনেশ জানিয়েছেন, “এমন কোনও ইস্যু নেই, যেটা বসে সমাধান করা সম্ভব নয়। ইস্যু থাকবে, সেটার সমাধানও হবে। তবে দুই দেশের মানুষের ইস্যু একটাই। সেটি হল ভাল সম্পর্ক।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই দিল্লিতে হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। যদিও ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে হাসিনার সাংবাদিক বৈঠকের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই মঞ্চে বলা ব্যক্তব্যের সাথে একমত নয় ভারত সরকার। কিন্তু এদিকে ভারতের এই অবস্থান মানতে নারাজ বাংলাদেশ। তাদের দাবি, ভারতে থেকে হাসিনা রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ নিচ্ছেন। ভারত সরকার যদি হাসিনাকে সেই সুযোগ করে দেয়, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে কিনা সেটা চিন্তার বিষয়। এমতাবস্থায় তারেকের ভারতে আসাও প্রশ্নের মুখে।
দীনেশ অবশ্য বলেছিলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমার মতে, যদি দুই রাষ্ট্রনেতা আলোচনা করেন তবে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। এখানে কোনও নেতিবাচক দিক নেই। সবটাই ইতিবাচক।’’
















