শিক্ষক সংকট এবং নিম্নমানের খাবারের অভিযোগে ফের উত্তাল হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের রাজপথ। লখনউয়ের জয়প্রকাশ নারায়ণ সর্বোদয় বিদ্যালয়ের প্রায় দু’শো ছাত্রী লখনউ-দুব্বাগা বাইপাস অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাল। ব্যস্ত রাস্তায় ছাত্রীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলেও প্রায় পঞ্চাশ জন ছাত্রী দীর্ঘক্ষণ পথ আটকে অবস্থান চালিয়ে যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ডাকার দাবিতে স্লোগান তোলে। পরে সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলোচনার আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা অবরোধ তুলে স্কুলে ফিরে যায়।
কয়েক দিন আগেই একই স্কুলের ছাত্ররা মোহন রোড অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। উল্লেখ্য, এই আবাসিক বিদ্যালয়ে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক ক্যাম্পাস রয়েছে। এ বারের ঘটনার পরে যোগী সরকারের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দফতর স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সাধারণ বদলির একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও সর্বোদয় আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঘাটতি মেটানোর বিষয়ে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অসীম অরুণ শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, সমস্যা মেটাতে গত বছর অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে এ সংক্রান্ত মামলা চলায় তাঁদের কাজে যোগ দিতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশ পেলেই তাঁদের দ্রুত ফেরানো হবে। পাশাপাশি বিগত দেড় মাস ধরে শিক্ষক অনুপস্থিতির জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ, বিজেপি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলেই আজ নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদেরও অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের বক্তব্য, এটি নিছক ছাত্রীদের অবস্থান বিক্ষোভ নয়, বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই স্পষ্ট বার্তা। চান্দুপুর, ফতেহপুর, হামিরপুর ও কনৌজের পর লখনউয়ের এই বিক্ষোভ সার্বিক পরিকাঠামোগত সংকটের চিত্রটিকেই সামনে এনে দিল।
















