প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার সময়ে ঘটে গেল এক মারাত্মক বিপত্তি। এক যাত্রীর কাছে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল পরীক্ষা করার সময় আচমকা গুলি ছুটে গিয়ে জখম হলেন দুই নিরাপত্তাকর্মী। আহতদের মধ্যে এক জন মহিলা কর্মীও রয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে গোটা বিমানবন্দর চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভরা বিমানবন্দরে আগ্নেয়াস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আজমগড়ের এক বাসিন্দা সস্ত্রীক মুম্বইগামী এয়ার ইন্ডিয়ার আইএক্স ১৮১০ বিমানে ওঠার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছন। বিমান পরিবহণের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যাত্রীর সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটি পরীক্ষার জন্য নিরাপত্তা ডেস্কে নেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই সময়েই অসাবধানতাবশত পিস্তলটি থেকে এক রাউন্ড গুলি বেরিয়ে যায়। গুলিটি প্রথমে বিমানবন্দরের মেঝেতে ধাক্কা খায় এবং তার পর ঠিকরে গিয়ে কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীর গায়ে লাগে।

গুলির আঘাতে এক কর্মীর হাতে এবং মহিলা কর্মীর উরুতে চোট লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় নিউ লক্ষ্মী ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসার পর দু’জনের শারীরিক অবস্থাই আপাতত স্থিতিশীল। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার আকস্মিকতায় এক শিশু-সহ মোট চার জন সামান্য আহত হয়েছেন।

 

 

বিমানবন্দর অধিকর্তা পুনীত গুপ্ত ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র পরীক্ষার সময়ে কেন ‘সেফটি ক্যাচ’ বা নির্দিষ্ট প্রোটোকল মানা হয়নি এবং অস্ত্রটি লোডেড অবস্থায় কীভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট যাত্রীর অস্ত্রের বৈধ নথি রয়েছে কি না এবং নিরাপত্তা কর্মীদের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বিমানবন্দর জুড়ে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে কেবল নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।