আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পত্তি থাকার অভিযোগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Leader of the Opposition in the Lok Sabha, Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে চলা মামলায় আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেন তিনি। এলাহাবাদ হাই কোর্টের (Allahabad High Court) নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে সোমবার মামলাটির পরবর্তী প্রক্রিয়া আপাতত থামিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, এই মুহূর্তে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলাটি নিয়ে আর এগোতে পারবে না হাই কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Chief Justice Surya Kant) নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi)ও বিচারপতি ভি মোহনও (Justice V. Mohan)। শুনানির সময়ই হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। রাহুল গান্ধীকে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিয়েই কেন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল, তা নিয়েই মূলত আপত্তি জানায় বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির আয় এবং সম্পত্তির মধ্যে অসঙ্গতির নির্দিষ্ট প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থার হাতে থাকলে তারা আইন অনুযায়ী নিজেরাই পদক্ষেপ করতে পারে। আলাদা করে আদালতের নির্দেশের প্রয়োজন হয় না।

এই মামলার সূত্রপাত কর্ণাটকের বিজেপি কর্মী এস ভিঘ্নেশ শিশিরের (Karnataka BJP worker S. Vignesh Shishir) অভিযোগ থেকে। রাহুল গান্ধীর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির হিসাবের সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বিষয়টি এলাহাবাদ হাই কোর্টে পৌঁছায়। গত মে মাসে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিবিআই এবং ইডিকে (ED) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পরে সিবিআইয়ের (CBI) তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা জানতে বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়। কিন্তু ২০ জুলাই সিবিআইয়ের দেওয়া রিপোর্টে তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট নয় বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাই কোর্ট। ইডি অবশ্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে এবং তদন্তে তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল।

হাই কোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যান রাহুল গান্ধী। সোমবার তাঁর আবেদনের শুনানির পর হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে শীর্ষ আদালত। ফলে আপাতত এই মামলায় রাহুলের বিরুদ্ধে কোনও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে না। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়েও অতীতে একাধিক অভিযোগ ও মামলা করেছিলেন এই বিজেপি কর্মী।