শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল রাজধানী দিল্লি। এই আন্দোলনের জেরে  একগুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court )। সাধারণত রবিবার ছুটি থাকে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court )। কিন্তু মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ(রবিবার) স্পেশাল বেঞ্চ বসছে।

 আদালতের নির্দেশ অবমাননা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। এই মামলা শুনানি হবে জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। কেন্দ্রীয় সরকার  আদালত অবমাননা করেছে এই অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছেন শৈলেন্দ্র।

আবেদনকারীর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পরিবহণ পরিষেবায় বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় তথ্যও যথাযথভাবে প্রচার করা হয়নি। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে গণপরিবহণ বন্ধ রাখা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে শীর্ষ আদালত কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার।

 তাঁর দাবি, ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, মেট্রো ও রেল পরিষেবার সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না। তবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। কিন্তু এরপরও ১০ অক্টোবর সিজেপির এবং বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের জন্য ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় বহু ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়। এমনকি ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।  কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপণ বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন।

 মামলাকারীর আবেদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার, দিল্লি মেট্রো চেয়ারপার্সন ডি ধারার বিরুদ্ধে অবমাননার প্রক্রিয়া জারি করা হোক। এই মামলার শুনানি আজকে হবে জরুরী ভিত্তিতে।

 মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন এই আন্দোলনে যোগ দেয়। জমায়েত রুখতে একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় পাশাপাশি বহু ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু গত শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মেট্রো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ মানেনি মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

 

আদালত অবমাননার মামলা ছাড়াও একটি হেবিয়ার কর্পাস আবেদনের শুনানি হবে ওই বিশেষ বেঞ্চে। শনিবার আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় এই আবেদন করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা সিনিয়র আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। একাধিক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ নেতা-নেত্রীদের আটক করার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলা করেছেন মেনকা গুরুস্বামী।