তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতির বান্ধবী অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণণকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য। এই অভিযোগে চেন্নাইয়ের বাড়ি থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার তামিলনাড়ুর (Tamilnadu) বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন (Udaynidi Stalin)। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর শাসক দল তথা তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম (TVK) সরকার এবং বিরোধী দল ডিএমকের (DMK) মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে।

তাঞ্জজাভুরে ডিএমকের এক প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বক্তৃতার সময়ে কাবেরী নদীর জলবণ্টন ঘিরে টানাপড়েন নিয়ে বিজয়ের সরকারকে আক্রমণ করেন উদয়নিধি। সমালোচনা করেন বিজয়ের। বলেন, “কাবেরীর জল এক ফোঁটাও পায়নি তামিলনাড়ু, অথচ মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে উদাসীন।” এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। আচমকাই সভাস্থলের ভিড় থেকে ‘তৃষা তৃষা’ বলে স্লোগান ওঠে। বক্তৃতা থামিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে হাসেন উদয়নিধি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, কুরুচিকর দ্ব্যার্থবোধক মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা। উদয়নিধি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

উদয়নিধির বিরুদ্ধে পুলিশে ৬টি লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়। গ্রেফতারি এড়াতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। যদিও তার আগেই গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় মহিলা কমিশনেও অভিযোগ জানিয়েছে টিভিকে। উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা, তামিলনাড়ু মহিলাদের হয়রানি প্রতিরোধ আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তোপ দেগেছে ডিএমকেও। দলের বর্ষীয়ান নেতা টি কে এস ইলাঙ্গোভান একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উদয়নিধি শুধু বিজয়ের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছিলেন। কাউকে অপমান করে কিছু বলা হয়নি, এমনকি তিনি তৃষার নাম পর্যন্ত মুখে আনেননি।” 

পাশাপাশি বিরোধী দলনেতার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে জাতীয় কমিশনে চিঠি লিখে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানায় টিভিকে। বলা হয়, ‘উদয়নিধি স্ট্যালিন একজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর, অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার নিম্নরুচির ও হেনস্থার সামিল।’