যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Prime Minister Narendra Modi) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এক কিশোরী এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল। শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে (Social Media) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সে জানায়, ‘বিক্ষোভ চলাকালীন আমি কয়েকজনের প্ররোচনায় পা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনেক খারাপ কথা বলে ফেলেছি। আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি যা করেছি তা ক্ষমার অযোগ্য। আমি অনেক বাজে কথা বলেছি। আমি গোটা দেশের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। আমি অত্যন্ত লজ্জিত ও অনুতপ্ত। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণ আগেই প্রধানমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় তরুণদের ভুলকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কম বয়সে ভুল হতে পারে, কিন্তু সেই তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই কিশোরীর ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও সামনে আসে।

এই ঘটনার জেরে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার  ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় (Noida Expressway Police Station) ‘জিরো এফআইআর’ নথিভুক্ত করা হলেও পরে তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় (Delhi's Parliament Street Police Station) পাঠানো হয়। এফআইআরে অভিযুক্তের বয়স ২৫ বছর লেখা হলেও, ভিডিও বার্তায় সে নিজেকে ১৫ বছরের কিশোরী বলে দাবি করেছে। এই বয়সের অসঙ্গতিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে, দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ (Delhi's Home Minister Ashish Sood) জানিয়েছেন, সাধারণ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অকারণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষপাতী নয় সরকার। তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি অশান্তি বা হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার বার্তা নিয়েও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সংসদ পবন খেরা (Congress MP Pawan Khera) কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁর কাছে দেশের মানুষই জবাব চাইছেন, তিনি কীভাবে অন্যদের ক্ষমা করছেন।