নিট ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নফাঁস মামলায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ সিবিআইয়ের (CBI)। আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র বাইরে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) প্রশ্নপ্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিষয় বিশেষজ্ঞের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র, যার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল পরীক্ষার বহু আগেই।
তদন্তে উঠে এসেছে, বটানি, পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ তাঁদের হাতে থাকা গোপন নথিতে প্রবেশাধিকারকে অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। সিবিআইয়ের বক্তব্য, এই তথ্য একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের (Network) মাধ্যমে বাইরে পাচার করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (Chargesheet) দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন বিষয়বিশেষজ্ঞ, কোচিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, দালাল এবং কয়েকজন পরীক্ষার্থী। চার্জশিটে মানিশা গুরুনাথ মান্ধারে (Manisha Gurunath Mandhare), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (Prahlad Kulkarni) এবং মানিশা সঞ্জয় হাভালদারের (Manisha Sanjay Havaldar) নামও রয়েছে।
তদন্তে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণকে (Digital Evidence) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্রের পিডিএফ এবং তার ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় (Forensic Examination) একাধিক চ্যাট, প্রশ্ন আদানপ্রদানের তথ্য এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রশ্নফাঁস চক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গিয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) সরকারি কর্মচারীর অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সংগৃহীত নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।
















