সম্ভল হিংসা মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের! জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা NSA-তে মুল্লা আফরোজের আটকের সিদ্ধান্ত খারিজ করল শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক আটক আইনের ক্ষমতা বেআইনি ভাবে প্রয়োগের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের উপর ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা চাপিয়েছে আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের আগের রায়ও খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের নভেম্বরের সম্ভল হিংসা থেকে। আদালতের নির্দেশে সম্ভলের শাহী জামা মসজিদে সমীক্ষা চলাকালীন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি আরও হিংসাত্মক হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের দাবি ছিল, মুল্লা আফরোজ এই হিংসার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা ‘মাস্টারমাইন্ড’।
২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি আফরোজকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি তখন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। সেই অবস্থাতেই ১৩ অক্টোবর ২০২৫ সম্ভলের জেলাশাসক NSA-র ৩(২) ধারায় তাঁকে আটক করার নির্দেশ জারি করেন। পরে ২৮ নভেম্বর সেই নির্দেশ বহাল করা হয়। আফরোজ এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন। এরপর ৮ জুন ২০২৬ এলাহাবাদ হাইকোর্ট NSA-র প্রয়োগ বহাল রাখে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান আফরোজ। শীর্ষ আদালতে তাঁর আইনজীবীর অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল—NSA-তে আটক রাখার ক্ষেত্রে যে উপাদানগুলির উপর নির্ভর করা হয়েছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পুলিশের হেফাজতে দেওয়া একটি কথিত স্বীকারোক্তি। মামলাটি শুনে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, শুধু পুলিশি হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে NSA-র মতো প্রতিরোধমূলক আটকের একমাত্র ভিত্তি করা যায় না। এমন বক্তব্য প্রাসঙ্গিক উপাদান হতে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিস্থিতি ও তথ্যও যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালতের মতে, আফরোজকে আটক করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করেনি। ফলে NSA-র আটকের নির্দেশ এবং সেটি বহাল রাখার পরবর্তী সিদ্ধান্ত—দুটিই বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত আরও জানায়, অন্য কোনও মামলায় তাঁর হেফাজত প্রয়োজন না থাকলে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে বেআইনি ভাবে 'প্রতিরোধমূলক আটক' ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই রায়ে মুল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে সম্ভল হিংসা সংক্রান্ত মূল অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। অর্থাৎ NSA-তে প্রতিরোধমূলক আটকের বৈধতাই ছিল এই মামলায় আদালতের বিবেচ্য বিষয়। আফরোজকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পুলিশের দাবিও আদালত এই রায়ে চূড়ান্ত ভাবে প্রতিষ্ঠা বা খারিজ করেনি। আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে—আফরোজের নাম প্রাথমিক FIR-এ ছিল না বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্টের কাছ থেকেও তিনি একটি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তার পরের মাসেই তাঁর বিরুদ্ধে NSA-র আটকের নির্দেশ জারি করা হয়। অর্থাৎ সম্ভল হিংসা মামলায় অভিযোগের বিচার আলাদা বিষয়, কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে NSA-র মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক আটক করার পদ্ধতিতেই আইনি ত্রুটি দেখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
















