মা, আমার কথা কেউ শোনে না। কেউ বোঝে না। সবাই শুধু অর্ডার করে। কথায় কথা না মেলালেই গোলমাল। মহারাষ্ট্রের (Maharastra) কুণাল চন্দগুঁড়ে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বারবার এ কথাই বলেছিল। তাহলে কি একমাত্র ছেলে বলে বাবা-মায়ের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে হাঁসফাঁস করছিল ১৮ বছরের তরুণ! মোবাইলের (Mobile Phone) ইএমআই (EMI) দেওয়া নিয়ে বাবার গঞ্জনাতেই কি তাতে ঘৃতাহুতি পড়ে?

সাম্প্রতিক সময়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে। আই ফোনের ইএমআই নিয়ে বাবার সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় কুণাল বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যায় আত্মহত্যা করার জন্য। বাবা-মা পড়শিরা দমকল, পুলিশ নিয়ে  গিয়ে নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কারওর কথাই শোনেনি কুণাল। শেষে বাবা চূড়ায় উঠে ছেলেকে হাত ধরে টেনে নামাতে গেলে দুজনাই গভীর খাদে পড়ে গিয়ে মারা যান। এই দৃশ্য দেখে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কুণালের মাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। 

কুণালের বাবা মুরলিধর ট্রাক ড্রাইভার। বাইরে বাইরে থাকতে হতো। ফলে মা-ছেলের সম্পর্কই গভীর ছিল। ৬ বছর আগে পরিবারের বড় ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর কুণালই ছিল তার মায়ের শেষ সম্বল। কিছু অনৈতিক প্রশ্রয়ও দিতেন। দু'দিন আগে বাড়ি ফেরেন মুরলিধর। তারপরই শুরু হয় মোবাইলের ইএমআই দেওয়া নিয়ে বাবা-ছেলের ঝগড়া। সঙ্গে পড়াশোনা নিয়েও নানা কথা। নরম স্বভাবের কুণাল বাবার কড়া কথা সহ্য করতে পারেনি। মনে হয়েছিল আমার জন্য এত যন্ত্রণা, তাহলে বেঁচে থাকন কেন? এই বয়সের আর পাঁচটা ছেলে-মেয়ের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু ছেলে যে পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। তাই তাঁরা দৌড়ে যান। কিন্তু কেউই বোঝেননি এটাই পরিবারটিকে শেষ করে দেবে। 

ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। কোনও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মায়ের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করছে কুণাল, তো কোথাও দেখা যাচ্ছে মায়ের পা ধুইয়ে দিচ্ছে। আর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের চূড়ায় কুণাল। তার কয়েক ফুট দূরে মাটিতে বসে আছড়ে কাঁদছেন মা। অনুরোধ করছেন ফিরে আসার জন্য। এরপর সঙ্গীতা এগিয়ে গিয়ে ছেলেকে হাত ধরে নামানোর চেষ্টা করতেই কুণাল আরও এক পা পাহাড়ের মাথায় চেপে যায়। ভয়ে পিছিয়ে আসেন সঙ্গীতা।

কুণাল বারবার বলছিল, কেউ আমার কথা শোনে না। আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। আমার বেঁচে থেকে লাভ নেই। শুধু মোবাইলের ইএমআই নয়, চন্দগুঁড়ে পরিবারের আরও অনেক সমস্যা নিশ্চিত ছিল। পুলিশ এখন সেই রহস্য সমাধানে ব্যস্ত। কিন্তু পরিবারের তিন সদস্য আর ফিরবেন না, এটাই বাস্তব।