এ কোন ভারতবর্ষ? এ কোন সময়? এ কোন সমাজ? একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে গোটা ভাবনা-চিন্তাকেই!
একটি মোবাইল। না, আই ফোন। শেষ করে দিল গোটা পরিবারকে। ভাবতে পারেন? হ্যাঁ, ঘটনা তেমনই। গোটা ঘটনা যত পড়বেন, ততই আপনার মনের মধ্যে আশা-আশঙ্কা-আতঙ্ক তৈরি হতে বাধ্য। আপনি যদি পড়ুয়া ছেলে-মেয়ের মা-বাবা হন, তাহলে একটু থমকে দাঁড়ান। ভাবুন। একবার নয়, বারবার ভাবুন। হ্যাঁ, পারলে নিজেকে শুধরে নিন। আর আপনার সন্তানকেও শোধরাতে সময় দিন, কথা বলুন।
ঘটনা মহারাষ্ট্রের। গল্প নয়। ভিডিওতে ধরা রয়েছে গোটা ঘটনা। হাড় হিম করা সে ভিডিও। দেখলেই বুঝতে পারবেন পরিণতি কী!
ছত্রপতি সম্ভাজিনগর। বাবা-মা ছেলের সংসার। ১৮ বছরের ছেলে কুণাল চান্দগুড়ে কলেজে পড়ে। আবদার করে বাবা মুরলিধরের (৪৮) থেকে আই ফোন নিয়েছিল। নিম্ন-মধ্যবিত্তের সংসারে আই ফোন বিলাসিতাই। শেষে স্ত্রীর কথা শুনে বাধ্য হন কিনে দিতে। সেই টাকা মাসিক কিস্তিতে দিতে হতো। আর সেই নিয়েই শুক্রবার সকাল থেকে বাবা-ছেলের বিবাদ। অভাবের সংসারে যা হয়ে থাকে। কিন্তু রাগারাগি এক সময়ে চরমে পৌঁছায়। বাবা কিছু কটূ কথা বলেন। আঁতে লেগে যায় ছেলের।
তারপর কী হলো? অভিমান আর ক্ষোভে কুণাল বাড়ির কাছের একটি পাহাড়ের খাদের চূড়ায় উঠে আত্মহত্যা করার হুমকি দিতে থাকে। পাহাড়ের এক দিকে ছিল গভীর খাদ। দুপুর একটা নাগাদ খবর পেয়ে কুণালের বাবা-মা, পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা পাহাড়ের চূড়ায় জড়ো হন। তাঁরা প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে কুণালকে শান্ত করে বাড়ি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এমনকি পড়শিরা তাঁকে নতুন 'আইফোন ১৭ প্রো' কিনে দিয়ে তা কিস্তিতে মিটিয়ে দেওয়ার প্রলোভনও দেখান। কিন্তু কুণাল পাহাড়ের চূড়া থেকে নামতে রাজি হয়নি।
দীর্ঘক্ষণ এভাবে চলার পর মুরলীধর ছেলের খুব কাছে এগিয়ে যান এবং তাঁকে টেনে পাহাড়ের চূড়ো থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ছেলেকে টানতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে কুণাল আর তার বাবা একসঙ্গে নিচে পড়ে যায়। গভীর খাদে পড়ে গিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দুজনের শরীর। পুলিশ-দমকল-পড়শিরা অসহায়ের মতো সে দৃশ্য দেখতে বাধ্য হয়। মর্মান্তিক।
চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানের এমন ভয়াবহ পরিণতি দেখে শোকে পাথর মা সঙ্গীতা চান্দগুড়েও ছুটে গিয়ে পাহাড়ের খাদে ঝাঁপ দেন। একসঙ্গে তিনটি জীবন শেষ!
এই পরিণতির দোষ কার? বাবা-মা, না ছেলের? নাকি সন্তানকে বড় করার মধ্যেই আমাদের অনেক অনেক ভুল থেকে যাচ্ছে। আমরা সন্তানকে বুঝতে চাই? সময় দিই? কোন শিক্ষাটা শুরু থেকে দরকার, সেটাও কি আমরা বুঝতে পারি? কাদের সঙ্গে সন্তান মিশছে, ঘুরছে, সময় কাটাচ্ছে, পড়ছে, আমরা খবর রাখি? ওদের সঙ্গে সারাদিনের কতক্ষণ কথা বলি? ওদের ভাললাগা, মন্দলাগা, মন খারাপের কথা শুনি? বাবা-মাকে ছেলেও বুঝবে, এমন ভাবনা কি আমরা তাদের শিক্ষার মধ্যে দিতে পেরেছি? এসব হাজারো প্রশ্ন ভিড় করে আসবেই। কে ঠিক, কে ভুল ভাবনাগুলো কাটাছেঁড়া করার দরকার আছে, আজ খুব দরকার আছে। কোন সাইকোলজিস্ট এই রোগের কিনারা করবে? আছে নাকি আপনাদের কাছে?
একটা আই ফোন শেষ করে দিল তিনটে জীবন! পড়ুন আর ভাবুন, একটু ভাবুন!
















