আশ্চর্য! কর্ণাটকের মান্ড্যর একটি কারাগার হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনের সময় বিচারাধীন এক বন্দিকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি নজরে আসে। চিকিৎসকদের নির্দেশ অনুযায়ী ওই বন্দির হাসপাতালে থাকার কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে তার প্রেমিকার সাথে একটি বিশেষ ওয়ার্ডে থাকতে দেখা যায়। এই অভিযানের ফলে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আসে। কারা বিভাগের কর্মকর্তারা যদিও দায় ঝেড়ে ফেলে নির্বিবাদে জানিয়ে দিয়েছেন যে, চিকিৎসাধীন ও বিচারাধীন বন্দিদের পাহারার দায়িত্ব কারা প্রশাসনের পরিবর্তে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের ওপর থাকে। তাই এই বিষয়ে তাঁদের কাছে কোন খবর নেই।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দায় সরব হয় সমাজমাধ্যম। চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে ওই বন্দীর শারীরিক অবস্থা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর নয়, তা সত্ত্বেও তাঁকে একটি ব্যক্তিগত ও বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে সেই দায় কে নেবে! পরিদর্শনের সময় ওই সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ভেতরে তাঁর প্রেমিকাকে তাঁর সাথে পাওয়া যায়। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এই ঘটনার পর কারা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, মেডিকেল ওয়ার্ডে থাকা বিচারাধীন বন্দিদের পাহারার দায়িত্ব কারাগারের অভ্যন্তরীণ রক্ষীদের নয়, বরং স্থানীয় পুলিশ বিভাগের আওতাধীন। বাইরের ব্যক্তিরা কীভাবে সেখানে প্রবেশের অনুমতি পেল, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। শ্রীরাঙ্গাপাটনা তালুক ভূমি রেকর্ড অফিসে অনিয়মের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মোহাম্মদ হোসেনকে ৩ জুলাই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কারা চিকিৎসকের সুপারিশে তাঁকে মিমস (MIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সূত্রের খবর, হাসপাতালে থাকাকালীন তিনি তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের পর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন জেলা দায়রা বিচারক তথা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (DLSA) সভাপতি চন্দ্রশেখর সি, KSLSA-র সদস্য-সচিব শশীধর শেট্টি, জনসংযোগ আধিকারিক (PRO) বালাসুব্রহ্মণি, সদস্য ড. মোহন রাও নালভাদে এবং DLSA-র সদস্য-সচিব আনন্দ এম।