নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) চলা আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Prime Minister Narendra Modi) আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে এক কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তাঁদের দাবি, অশালীন ভাষা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু সেই কারণে একজন কিশোরীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা আইন প্রয়োগের সঠিক দৃষ্টান্ত হতে পারে না।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের (CJP spokesperson Saurav Das) বক্তব্য, "কটূ ভাষা কখনওই অপরাধ হতে পারে না। এক একজনের কাছে রুচির মাপকাঠি এক এক রকম হতে পারে। যে বক্তব্য হিংসা উস্কে দেয় না, তা স্রেফ একটি বক্তব্য মাত্র। বক্তব্যের উত্তর আরও জোরালো বক্তব্যে দেওয়া উচিত, পুলিশ দিয়ে নয়।" একইসঙ্গে তিনি তরুণ প্রজন্মকে অযথা অপরাধী না বানিয়ে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আবেদন জানান।

এই ঘটনার জেরে সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগও তুলেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (CJP founder Abhijit Dipka)। তাঁর দাবি, "গালি দেওয়ার জন্য যদি এফআইআর করতেই হয়, তবে বিজেপির ওই আইটি সেলের সদস্যদের বিরুদ্ধে কবে মামলা হবে, যারা বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে মহিলাদের উদ্দেশ্য করে সবচেয়ে নোংরা ভাষা ব্যবহার করে আসছে? তারা সগর্বে বায়োতে লিখে রাখে 'ফলোড বাই পিএম মোদী'। তারা মেয়েদের গালি দিলে ছাড়, আর প্রতিবাদের মুখে কিছু ভাষা বেরোলে এফআইআর?"

২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলনের সময় করা অভিযোগের ভিত্তিতে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত হয়। পরে তদন্তের স্বার্থে মামলাটি নতুন দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে বিতর্কের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিও বার্তায় জানান, আন্দোলনের সময় তাঁকে ও তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা শিক্ষার্থীদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তরুণদের আইনের জালে জড়িয়ে না ফেলে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই সমাজের দায়িত্ব।