“মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম। একটাই তো জীবন, ধ্বংস হয়ে গেল।”— শনিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক বার্তা পোস্ট হতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। কাকলি যখন বলছেন জীবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন ধরে নিতেই হয় তাঁর জীবনে এখন নতুন হাওয়া বইছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চার দশকের পুরনো দলকে পেছনে ফেলে, দলের সঙ্গে বেইমানি করে এই নতুন জীবনে তিনি পেলেনটা কী? যে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সারা জীবন লড়াই করলেন, আজ কি তবে সেই প্রধানমন্ত্রীর দরবারে চায়ের আমন্ত্রণটাই তাঁর জীবনের চরম মোক্ষ হয়ে দাঁড়াল? আর চিরশত্রুর এমন করুণা ও অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে বাঁচতে তাঁর কি একটুও কষ্ট হচ্ছে না?
দলের সঙ্গে বেইমানি করে কাকলি কোন মোক্ষ লাভ করলেন!
Sponsored

বিতর্ক ও জল্পনার মাঝেই কাকলি দ্বিতীয় একটি পোস্ট করে সেই আগুনেই ঘি ঢালেন। সেখানে তিনি লেখেন, “চল্লিশ বছর ধরে মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম। একটাই তো জীবন, জীবনটা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছিল।” দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই পথ হেঁটেছেন কাকলি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের হারের সুযোগে তৃণমূল চূর্ণবিচূর্ণ হতে শুরু করতেই দল ছেড়ে যে ২০ জন সাংসদ রাতারাতি নতুন গঠিত দল এনসিপিআই-তে যোগ দেন, কাকলি এখন তাঁদেরই অন্যতম মুখ।
অথচ এই আক্ষেপভরা পোস্টের ঠিক আগের দিনই ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে হাসিমুখে ব্রেকফাস্ট টেবিলে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। নরেন্দ্র মোদির চায়ের নিমন্ত্রণে আপ্লুত কাকলি বৈঠক শেষে মোদির দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ‘জীবন ধ্বংস’ হওয়ার হা-হুতাশ রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে। পুরনো দলকে প্রতারিত করে মোদি সরকারের শরণাপন্ন হয়েও কি কোনো নতুন চরম অসন্তোষ দানা বাঁধছে, নাকি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব হারানোর আক্ষেপই ফুটে উঠছে প্রবীণ নেত্রীর কণ্ঠে— চর্চা এখন তুঙ্গে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













