শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি যতই জোরালো হোক, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না নয়াদিল্লি (New Delhi)। ভারতীয় সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ঢাকার প্রত্যর্পণ-আবেদন আগে দেশের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়বে। শেষ পর্যন্ত হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। ফলে কূটনৈতিক স্তরে ভারত-বাংলাদেশের আলোচনা চললেও হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি এখন অনেকটাই আইনি পর্যালোচনার উপর নির্ভরশীল।
এদিকে ঢাকা এই দাবিতে অবস্থান নরম করেনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister of Bangladesh Tarique Rahman) সম্প্রতি নয়াদিল্লির হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি তুলেছেন। বাংলাদেশের তরফে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ-প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর আবেদনও জানানো হয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমিয়ে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে হাসিনার ডিসেম্বরের দেশে ফেরার ঘোষণা। ৫ অগাস্ট দিল্লি থেকে দেওয়া ভার্চুয়াল বার্তায় তিনি জানান, বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অথচ বাংলাদেশের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। ফলে তাঁর এই ঘোষণার পর প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে এখন নজর দুই জায়গায় এক দিকে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক আলোচনা, অন্য দিকে ভারতের আইনি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের দাবি এবং হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দুইয়ের মাঝখানে ভারতের অবস্থান আপাতত স্পষ্ট। প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক আলোচনায় নয়, আদালতের বিবেচনাতেই হবে। ফলে আগামী দিনে এই আইনি প্রক্রিয়াই ঠিক করবে হাসিনার ভারতে থাকা অব্যাহত থাকবে, নাকি তাঁর বাংলাদেশে ফেরার পথ খুলবে।
















