সংস্কৃতির হাত ধরেই উন্নয়নের নতুন দিশা, কলকাতায় মৈত্রী কালচারাল ইকোনমি সম্মেলন

সংস্কৃতিকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কলকাতায় শুরু হল মৈত্রীবোধ পরিবারের উদ্যোগে মৈত্রী কালচারাল ইকোনমি সমিতির জাতীয় সম্মেলন (MCES)। এই সম্মেলনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সংস্কৃতিনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারক, সরকারের প্রতিনিধিরা, শিক্ষাবিদ, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের চিন্তাবিদরা এক মঞ্চে এসে আলোচনা করেন কীভাবে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন, উদ্যোগ গড়ে তোলা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দেশ গঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
Sponsored

এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত (Union Minister of Culture and Tourism Gajendra Singh Shekhawat)। তিনি বলেন, "সংস্কৃতির সঙ্গে যখন মানুষের জীবিকা জড়িয়ে যায়, তখন তা সমাজকে শক্তিশালী করে। আর সংস্কৃতির সঙ্গে অর্থনীতির সংযোগ তৈরি হলে সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে, নতুন সুযোগ তৈরি হয়। 'বিকশিত ভারত'-এর পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব শক্তিই দেশের সামগ্রিক শক্তিতে পরিণত হবে। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের জন্য পরিচিত বাংলার অবদান ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
Sponsored


রাজ্যের পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ (Dr. Shankar Ghosh, the State Minister for Tourism and Parliamentary Affairs) এবং তথ্য ও সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও (Purnima Chakraborty, Minister of State for Information, Culture, and Tourism) সম্মেলনে সংস্কৃতির সঙ্গে উন্নয়ন ও অর্থনীতির যোগসূত্রের ওপর জোর দেন। ড. ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার সময় এসেছে। অন্যদিকে পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, সংস্কৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা অতীতের জ্ঞানকে ধারণ করে, বর্তমানকে অনুপ্রাণিত করে এবং ভবিষ্যতের পথ দেখায়। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উদযাপন একটি আত্মবিশ্বাসী, প্রগতিশীল এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
Sponsored

সম্মেলনে সংস্কৃতিনির্ভর অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণ, পশ্চিমবঙ্গে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মন্দিরভিত্তিক অর্থনীতি, পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব, আঞ্চলিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ সভ্যতার যোগসূত্র পুনরুজ্জীবিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ঐতিহ্য নথিভুক্তকরণ ও মেধাস্বত্ব (IPR) এর মাধ্যমে ডিজিটাল যুগে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
Sponsored

অনুষ্ঠানে মৈত্রেয় দাদাশ্রীজির (Maitreya Dadashreeji) দূরদর্শী নেতৃত্বেরও প্রশংসা করা হয়। আধ্যাত্মিকতা, ভারতীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রসারের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি তাঁর ধারাবাহিক উদ্যোগকে দেশ গঠনের একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
Sponsored

এই সম্মেলনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সংস্কৃতিনির্ভর অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার একটি শক্ত ভিত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
Sponsored

Related Articles

অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের একাংশে গেরুয়া রং , প্রতিবাদে সরব নাট্যজগৎ
Jul 12

বিশ্বরূপের কবিতায় প্রেমের স্মৃতি, গল্পে ভালোবাসার আহ্বান
Jul 5

সঙ্গীতজ্ঞ দেবজ্যোতি মিশ্রকে 'বাংলার সোনা' সম্মানে ভূষিত করল শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স
Jun 29

মৌলিক সঙ্গীত জগতকে বিকশিত করতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রাঘব-অনিন্দ্যদের
Jun 18

প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী সুমন কল্যাণপুর, শোকের ছায়া সাংস্কৃতিক জগতে
Jun 1

পার্থতে মুগ্ধ শমীক ! রাজনীতির ভিন্ন মেরু বিলীন শিল্পপ্রেমের সৌহার্দ্যে
May 17





