এক বুক রোদ্দুর কিংবা সমুদ্র সঙ্গে নিয়ে প্রিয়জনের নিষ্পাপ মনের ঠিক কতটা কাছে যাওয়া যায়? বসন্ত সমীকরণের পাতাঝরা সকাল বিকেলে, এলোমেলো হাওয়ায় অনুভূতিদের সঙ্গী করে গোপন অভিসারে যাওয়ার স্মৃতি এবার ধরা দিল বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়ের কলমে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায় লেখালেখি শুরু করেন বিশ শতকের আটের দশকের গোড়ায়। তাঁর সাহিত্য অনুরাগ পাঠক মহলে বন্দিত। লেখকের সৃষ্টি থেকে তিনটি বইয়ের কথা তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।
সময়ের আবর্তনে বদলে যাওয়া অনুভূতিদের মেলা এবার বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়ের লেখা কবিতার ছন্দে। সাহিত্য রংবেরং পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত 'বেলা পড়ে যায়' শীর্ষক কবিতার সংকলন পড়তে পড়তে অচিরেই মন প্রশ্ন করে কতটা আলোকবর্ষ হাঁটলে তার হৃদয়ের দেখা মেলে সোশ্যাল মিডিয়া আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যস্ত দুনিয়ায় ঘড়ির কাঁটার হিসেব না রাখা প্রতীক্ষার অনন্ত প্রহরের কথাগুলো বইয়ের পাতায় তুলে ধরলেন লেখক।বইতে ধরা দিয়েছে জলঙ্গীর প্রসঙ্গ থেকে চে গুয়েভারার কথা। অসহায়ের নিষ্ফল হাহাকার থেকে প্রিয় শহরের একান্ত নিভৃতে রবির অস্তরাগের বাসর কল্পনা।
কবিতার পর এবার আসা যাক গল্পের কথায়। পেশাগত জীবন প্রথমে সাংবাদিকতা এবং তারপর জনসংযোগে গল্প লেখার নেশাটা কখনই ছাড়তে পারেননি লেখক। ভালবাসার অনুভূতিকে নিজের লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন ১৮ টি গল্পের সংকলন নব কলিকায় প্রকাশনীর 'সকাল বিকেল সাঁঝবেলার গল্প' বইতে। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে তাঁর প্রিয় সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্তকে। 'যখন বৃষ্টি নামল', 'সূর্যোদয়ের দিকে', 'যে স্বরলিপি শেষ হয় না', 'দায়বদ্ধ' - গল্পগুলো মনে দাগ কেটে যায়। কোথাও ধরা পড়েছে প্রেমের অপেক্ষা কোথাও আবার নিবেদনের নিভৃত অন্তর্দৃষ্টি। প্রেম-বিরহ-যন্ত্রণা আর চাওয়া পাওয়ার আলপথে পথ চলার যে গল্প লিখেছেন সাহিত্যিক, তা নিঃসন্দেহে দৃষ্টি আকর্ষণ করবে পাঠকদের।
এবার আসা যাক তৃতীয় বইয়ের প্রসঙ্গে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে প্রায় প্রতিদিন বিশ্বের কোনও না কোনও প্রান্তে বই বা লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। দিব্যত্রয়ীর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত আবহমান সেবাব্রত নিয়ে কাজ করে চলা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কার্যকলাপ লিপিবদ্ধ করেছেন বিশ্বরূপ। কথামৃত ভবনে দুর্গাঘট স্থাপনার ঘটনা প্রবাহ থেকে বরানগর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের গোড়ার কথা ধরা দিয়েছে গ্রন্থে। লেখক উল্লেখ ধরেছেন শ্যামপুকুর বাটি পুনরুদ্ধার ও শ্রীরামকৃষ্ণ স্মরণ সংঘের ইতিহাসও। যেভাবে রামকৃষ্ণ মঠ মিশন সেবাব্রতে নিরন্তর কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করে চলেছে তা কারোর অজানিত নয়। লেখক দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ঠাকুরমার স্বামীজীর কথা লিখেছেন। মিশনের প্রবীণ সন্ন্যাসী ও কর্মাধ্যক্ষদের অনুরোধ ছিল এই সমস্ত লিখন একত্রে বাঁধনের জন্য। তাই সন্ন্যাসীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে 'রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন আবহমান সেবাব্রত' বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন সাহিত্যিক। শ্রী শ্রী ঠাকুরের ভাব আন্দোলনের শরিক সব ভক্ত অনুরাগীবৃন্দকে এ বই নিবেদনও করেছেন তিনি। বইয়ের প্রতিটি ছত্র পড়তে পড়তে মন শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবসাগরে নিমজ্জিত হতে বাধ্য।
এক কথায় বলতেই হয় ভিন্নধর্মী বিষয়ের উপর রচিত বইগুলি এক পশলা ভালো লাগা ছড়িয়ে দেবে মনে, যার রেশ থেকে যাবে বহুদিন পর্যন্ত।
















