বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির মেলবন্ধনে আরও এক ইতিহাস তৈরির পথে ভারত। দেশের মাটিতে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সূর্য (Artificial Sun)। মহাজগতের শক্তির মূল আধারকে নিজের দেশেই সৃষ্টি করার কাজে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। গুজরাটের গবেষণাগারে এসএসটি-১ টোকামাক (SST-1 Tokamak) যন্ত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে বসানো হল শক্তিশালী জাইরোট্রন। ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চের (institute for plasma research)তরফে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই খুশি মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন: রাশিফল: কর্মে সাফল্য না মানসিক উদ্বেগ? জেনে নিন আজকের ভাগ্য

পৃথিবীতে বসেই কৃত্রিম সূর্য তৈরি করা সহজ কাজ নয়। সমাজ মাধ্যমের সৌজন্যে এতদিনে সকলেই জেনে গিয়েছেন যে চিন এই কাজে অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু ভারতও পিছিয়ে নেই। কেন এই কথা বলা হচ্ছে সেটা বুঝতে গেলে এসএসটি-১ টোকামাক যন্ত্র সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া দরকার। 'স্টেডি স্টেট সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক' (SST-1 Tokamak) হল ভারতের পরীক্ষামূলক ফিউশন যন্ত্র।চরম তাপ ও চাপে হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে জুড়ে দিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া হল ফিউশন। এই পরীক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে প্লাজমা। বিজ্ঞানীরা একেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় গরম করতে চাইছেন। তারপর টোকামাকের ভেতরে শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে সাহায্যে একে ধরে রাখা হবে। সূত্রের খবর, ভারত গুজরাটের ল্যাবে যে ফিউশন পরীক্ষা করছে সেখানে প্লাজমার তাপমাত্রা কুড়ি কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে যার নিঃসন্দেহে এই গবেষণায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক দিক। কারণ এই উত্তাপ সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার প্রায় কুড়ি গুণ বেশি।

চরম উত্তাপে পৌঁছে প্লাজমাকে স্থিতিশীল ভাবে ধরে রাখতে বসানো হয়েছে জাইরোট্রন নামের উচ্চ-কম্পাঙ্কের মাইক্রোওয়েভ শক্তি উৎপাদনকারী এক যন্ত্র (এর ক্ষমতা ৮২.৬ গিগাহার্ৎজ এবং ৪০০ কিলোওয়াট)।বিজ্ঞানীরা বলছেন নতুন সিস্টেমটি এসএসটি- ওয়ানের ভিতরে অবস্থিত প্লাজমাতে এই শক্তি ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম।সূর্যের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব বিপুল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্লাজমাকে ধরে রাখে। কিন্তু পৃথিবীতে সেই কাজ করতে গেলে জটিল চৌম্বকীয় ব্যবস্থার উপর ভরসা করতে হবে। প্লাজমার সাথে যাতে রিয়াক্টরের কোনও রকমের সংযোগ না হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বিজ্ঞানীদের। কৃত্রিম সূর্য দিয়ে হয়তো খুব তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না কিন্তু চরম তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা নিঃসন্দেহে অনেক বড় সাফল্য।