কয়েক মাস আগে ইস্টবেঙ্গলকে ২২ বছর পর ভারতসেরা করেছিলেন অস্কার ব্রুজো। কিন্তু  সাফল্য দেওয়ার পরও অস্কারকে কোচ পদে রাখেনি ইস্টবেঙ্গল। বিগত কয়েকদিন ধরেই ইস্টবেঙ্গল এবং অস্কার এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা লড়াই চলছে। এবার বিস্ফোরণ ঘটালেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে কলকাতা ময়দানে।

বৃহস্পতিবারই দলের প্রাক্তন প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজোন ও তাঁর সহকারীদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের একটি ফ্যান পেজের সামাজিক  মাধ্যমে কাদাছোঁড়াছুঁড়ির মধ্যেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল এফসি।একটি ফ্যান ক্লাবের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আপনাদের ম্যানেজমেন্টকে ধিক্কার। সব সমর্থকরা জানেন যে আপনাদের অ্যাজেন্ডা, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও ভাবনা সম্পর্কে কেমন। ব্যক্তিগত স্বার্থকে চরিতার্থ করতেই আপনারা এই কাজ করছেন। 

এই নিয়ে বিবৃতি দেয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। লেখা হয়, কিছু অসাধু গোষ্ঠী ইস্টবেঙ্গল এবং অস্কার ব্রুজোর নাম ব্যবহার করে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে অহেতুক বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন কোচের প্রতি 'সর্বোচ্চ সম্মান' রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ।

 

সমাজ মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গলের পোস্টের কমেন্টে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন অস্কার, যা রীতিমতো বিস্ফোরক।  তিনি লিখেছেন, “আইএসএলের শেষ ম্যাচের (ইন্টার কাশী) আগে মাস্টার কয়েকজন সদস্যদের বলেন রেফারি আমাদের পক্ষে আছে। কিন্তু এটা সত্যি নয়। যারা ম্যাচটা দেখেছেন তারা জানেন রেফারি নিরপেক্ষ ভাবে ম্যাচ খেলিয়েছেন। ভুল তথ্য প্রচারের জন্য এই কাজটা করেছিলেন।“ কিন্তু অস্কারের কথায় কে এই মাস্টার, তাঁর নাম তিনি নেননি। অনেকেই মনে করছেন মাস্টার বলতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোন শীর্ষ স্থানীয় কর্তা হতে পারেন।

এখানেই থামেননি অস্কার। স্প্যানিশ কোচ আরও অভিযোগ করেছেন.  বাইরে ম্যাচ থাকলে দলের সঙ্গে সেখানে যেতেন তিনি। কিন্তু সেটা ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন করতে নয়। দলে  নিজের প্রভাব খাটানোই ছিল তাঁর লক্ষ্য। দলের ভিতরের খবর ‘মাস্টার’-এর কাছে চলে যেত বলেও দাবি করেছেন অস্কার।

ক্ষুব্ধ বিদায়ী কোচ এখানেই থামেননি। তিনি সরাসরি ক্লাবের ফ্যান ক্লাব গুলিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ, কর্তারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে অভ্যন্তরীণ ফ্যান গ্রুপগুলিকে ব্যবহার করছেন। অস্কারের কথায় উঠে এসেছে মোহনবাগানের প্রসঙ্গও। তাঁর কথায়, “আমাদের পাশের মাঠেই অনুশীলন করত মোহনবাগান। অথচ তাদের ধারাবাহিক ভাবে এই ধরনের প্রচারের সমস্যা সামলাতে হয়নি। আমাদের রণকৌশলের তথ্য বার বার প্রকাশ হয়ে যেত।“