ঘরে অভাবের নিত্য আনাগোনা। মা সারাদিন বসে বিড়ি বাঁধেন, আর বাবার দিন কাটে অন্যের বাড়ি তৈরির জন্য ইট-বালি-সিমেন্ট মেখে। দু’বেলা ঠিকমতো অন্নের সংস্থান করাই যেখানে এক বিরাট যুদ্ধ, সেখান থেকেই দেশের নীল জার্সি গায়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে উত্তর ২৪ পরগনার এক কিশোর।

হাসনাবাদের বোলদেপোতা গ্রামের তাইবুর মোল্লা এখন সেই স্বপ্নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। সুযোগ এসেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের ট্রায়ালে নিজেকে প্রমাণ করার।

বোলদেপোতা গ্রামের অতি সাধারণ ঘরে তাইবুরের বেড়ে ওঠা। আধুনিক সাজসরঞ্জাম বা দামি বুট কেনার সাধ্য ছিল না পরিবারের। ব্রাজিলের তারকা নেইমারকে আদর্শ করে গ্রামের এবড়োখেবড়ো মেঠো পথেই শুরু হয়েছিল বল নিয়ে দৌড়। কখনও রবারের বল, কখনও বা পুরনো খবরের কাগজ দড়ি দিয়ে মুড়িয়ে তৈরি বলে শট নিয়ে নিয়েই ক্ষুরধার হয়েছে পায়ের কাজ। সংসারের হাজার টানাটানির মধ্যেও বাবা-মা কখনও ছেলের খেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি, বরং সাধ্যের অতীত গিয়েও জুগিয়েছেন উৎসাহ।

মাঝমাঠে বলের দখল নেওয়া এবং নিখুঁত পাস বাড়ানোর দক্ষতায় ইতিমধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের যুব দলে নজর কেড়েছে হাসনাবাদের এই তরুণ প্রতিভা। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপানোর পর এবার তার সামনে জাতীয় স্তরের দরজা। আসন্ন এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গোয়ার ফতোরদায় আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ট্রায়াল শিবিরে ডাক পেয়েছে সে।

বাবার ঘামে ভেজা জামা আর মায়ের বিড়ি বাঁধা খসখসে হাতের স্পর্শকে সঙ্গী করেই গোয়ার উদ্দেশে পা বাড়িয়েছে তাইবুর। গ্রামের ধূলোমাখা মাঠ থেকে উঠে এসে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে জায়গা করে নেওয়াই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য।