ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন মহিলা কুস্তিগীররা। গত ৩ অগাস্ট যৌন হেনস্তা কাণ্ডে বেকসুর খালাস পেয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তথা উত্তরপ্রদেশের বাহুবলী নেতা ব্রিজভূষণ। কিন্তু যে আদালত ব্রিজভূষণকে বেকসুর খালাস করেছিল সেই আদালতের নতুন করে আবেদন করলেন মহিলা কুস্তিগীররা।
দিল্লি রাইস এভিনিউ কোটে এই মামলার ফের শুনানি হবে। কুস্তিগীরদের আবেদনে বলা হয়েছে চিরাচরিত ধারণার বশবর্তী হয়েই বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছে ব্রিজভূষণকে। ২০২৩ সালে ভারতের তৎকালীন কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি ব্রিজ ভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন ৬ মহিলা কুস্তিগীর। এরপর এই ইস্যুতের দেশ উত্তাল হয়। দিল্লিতে প্রতিবাদে ধারণা শুরু করেন দেশের তারকা কুস্তিগীররা এরপর আন্দোলন অনেক দূর গড়ায়। কিন্তু গত ৩ অগাস্ট ব্রিজভূষণকে বেকসুর খালাস করে দেয় আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। তদন্ত শেষে প্রায় ১,৫০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ৩৫৪, ৩৫৪এ, ৩৫৪ডি ও ৫০৬ (১) নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। তোমরের বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় মামলা হয়েছিল। আগেই দু জনেই জামিন পেয়েছিলেন। এবার মামলা থেকে মুক্তি পেলেন। সাক্ষী মালিক-ভিনেশ ফোগাটদের অভিযোগ ধোপে টেকেনি। পাশাপাশি এই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত ভারতীয় কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন সহ সচিব বিনোদ তোমরকেও সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় আদালত।
এই মামলায় একাধিক সাক্ষ গ্রহণ করা হয়। গত ৩ জুলাই শুনানি শেষ হয়। ৩ অগাস্ট পর্বে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলায় যে প্রমাণ ও সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তাই ব্রিজভূষণ ও বিনোদ তোমর, দু’জনকেই মামলা থেকে মুক্ত করা হচ্ছে।
কুস্তিগিরদের নতুন করা আবেদনে বলা হয়েছে, নির্যাতিতারা যৌন হেনস্তার ঘটনায় কী করেছেন, সেই বিষয়ে পুরনো দিনের ধ্যানধারণার উপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারিনীদের বয়ান বা তথ্যপ্রমাণকে মোটেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আদালতের কাছে কুস্তিগিরদের আবেদন, আগামী দিনে যেন তথ্য়প্রমাণ খতিয়ে দেখা হোক।
















