বিতর্কের আবহেই বৃহস্পতি অনুষ্ঠিত সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা। কোনও অভিজাত হোটেল নয় এবার এজিএম হল ইডেনেই। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিএবিতে প্রথম এজিএম। ভোটাভুটি না হলেও সাধারণ সভা ঘিরে ময়দানে পারদ চড়়ছিল। ফলে পদ্ম শিবিরের একাধিক বিধায়য়ক উপস্থিত থাকলেন।
রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে ময়দানে প্রভাব বিস্তারে মরিয়া পদ্মশিবির। সিএবি’র সভায় বিজেপির পাঁচ প্রতিনিধি থাকলেন। বিধায়ক সজল ঘোষ বরানগর স্পোর্টিং , বেলগাছিয়া ইউনাইটেড থেকে বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি , প্রতিনিধিত্ব করলেন এজিএমে। পাশাপাশি সৌরভ শিকদার ও অনুপম ভট্টাচার্যর মতো নেতারাও এবার এজিএমে এলেন। যা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ক্রীড়ামহলে। ফলে ময়দানে নতুন অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গেল।
বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচন হল না ৷ তবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভা উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল ছিল ৷ বিশেষ করে বয়স কারচুপি নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ৷ বৃহস্পতিবারের বার্ষিক সভায় অভিষেক ডালমিয়া একাধিক প্রশ্ন নিয়ে সরব হলেন। বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বরূপ দে এবং অভিষেকের মধ্যে উত্তপ্ত কথাবার্তা হল। কে সৎ কে অসৎ এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক তার পাল্টা বক্তব্য পেশ করেন বিশ্বরূপ দে এমন কি বিভিন্ন ইস্যুতে অভিষেকের সঙ্গে সিএবি প্রাক্তন সভাপতি স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় উত্প্ত কথা হল।
সূত্রের খবর অনুসারে কয়েকদিন আগে বিশ্বরূপ দের একটি মন্তব্য করেছিলেন সিএবিতে যারা থাকেন তাদের ৯০% সৎ বাকি ১০% অসৎ এই বিষয়টি নিয়ে অভিষেক সবাই বলেন আপনি নিজেই তো স্বীকার করেছেন আপনি পুরোপুরি সৎ নন তাহলে আপনার সঙ্গে কি কথা বলব।
এই বিষয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় বিশ্বরূপ বলেন, কোন মানুষ পুরোপুরি সৎ এটা কি বলা সম্ভব তাহলে তিনি তো ভগবান, তার সঙ্গে তো রামকৃষ্ণ শংকরাচার্যদের মিল হতে পারে আ,মার সঙ্গে অভিষেকের কথা হয়েছে আমি এটা কাটাকাটি বলবো না কারণ অভিষেকের বাবা আমার গুরু জগ মোহন ডালমিয়া ও আমার স্নেহের. সিএবি বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা অনুযায়ী চলে এর আগে লোধা কমিটির সময় অনেকেই cab ছেড়ে চলে গিয়েছিল. । এই সময় প্রেসিডেন্ট চালিয়েছিলেন অভিষেক সেই সময় কমিটিতে ছিল।
জেলাশাসকদের চিঠি চাপাটির পরেও মিলল না সমাধান। ৯ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ ও সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিরা সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, তা নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ৮ জেলাশাসক।
যে চিঠির প্রভাবে স্থগিত হয়ে যায় সিএবির নির্বাচন। সচিব, যুগ্ম সচিব ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের এক সদস্য এখনও ফাঁকা। মনোনয়ন জমা দেয়নি কেউ।
সিএবির বার্ষিক সভাতেও মিলল না তার সমাধান। ৯ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ ও সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিরা সিএবিতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন অভিষেক শিবিরের। একত্রে বসে কমিটি তৈরি করে সমাধানের বার্তাও দেন প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট।
সংবিধান সংশোধন করতে গেলে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি দরকার। কমিটি গড়ে কোনও লাভ নেই। অভিষেক শিবিরকে খোঁচা সৌরভের। যদিও সব শেষে অভিষেক ডালিমিয়া বলেন ,আমার খুব বেশি কিছু বলার নেই কারণ আমি বর্তমানে সিএবির কোন পদে নেই যা বলবেন বর্তমান পদাধিকারীরাই বলবেন।
বয়স ভাঁড়ানো, জাল সার্টিফিকেট ইস্যুতে সরগরম সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা। কীভাবে দিনের পর দিন বয়স ভাঁড়িয়ে, জাল নথিপত্র দেখিয়ে ক্রিকেটাররা খেলছে সিএবি লিগে? এজিএমে প্রশ্ন তুললেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। বয়স ভাঁড়ানো, জাল সংশাপত্রের দুর্নীতি রুখতে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব বেলগাছিয়া ইউনাইটেডের প্রতিনিধি রীতেশ তিওয়ারির। প্রস্তাবকে স্বাগত সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। সৌরভ বলে আমরা কেএমসিকে সব সমস্ত কাগজপত্র জমা দিই।
আগামী ২০২৮ সালের সিএবির ১০০ বছর এই উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছে. ।সিএবি শতবর্ষ জমকালো আয়োজনে পরিকল্পনা হয়েছে। ভালো যাতে কয়েকটি ম্যাচ করা যায় সেই বিষয়টিও চিন্তা-ভাবনা করছে সিএবি। তিন চারটি বিদেশি দলের সঙ্গে যাতে ম্যাচ করা যায় সেই বিষয়ে বোর্ড এর কাছে প্রস্তাব দিতে পারে সিএবি।
















