বুধবার এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যক্তিগত সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় রুপো জিতেছেন আফগানিস্তানের ফারিবা হাশিনি(Fariba Hashimi)। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটা দেশ, তালিবানী ফতোয়া, পদে পদে বাধার প্রাচীর ভেঙে মহাদেশীয় মঞ্চে নারীবাদের জয়গান গাইলেন আফগান ক্রীড়াবিদ।

আফগানিস্তানের মতো দেশে কোনও মহিলার খেলাধুলায় অংশগ্রহণ সহজ বিষয় নয়। ফারিবার পদক জয়ের পথটাও সহজ ছিল না। সাইক্লিং করার জন্য ছন্মবেশ ধরে   দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। অবশেষে   দেশত্যাগী ফারিবাই হলেন আফগানিস্তানের প্রথম এশিয়াডে পদক জয়ী ক্রীড়া। ফারিবা এখন অনুপ্রেরণার এক জলন্ত উদাহরণ লক্ষ লক্ষ আফগান মহিলার। যারা প্রতিদিন নিজেদের স্বাধীনতা বির্সজন দিচ্ছেন তালিবানি ফতোয়ায়। 

ফারিবার জন্ম আফগানিস্তানের ফারিয়াব প্রদেশে। ১৫ বছর বয়সে দিদি ইয়ুলদুজকে দেখেই সাইক্লিংয়ে হাতেখড়ি। কিন্তু মেয়েদের খেলাধুলা সেখানে ঘোরতর নিষিদ্ধ। বাধ্য হয়েই সাইকেল চালানোর সময় পুরুষের বেশ ধরতে হত তাঁকে। কিন্ত বয়স বাড়চে থাকায় ধরা পড়তে শুরু করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা বার বার বিপদের মুখোমুখি হন। কিন্তু সাইক্লিং ছাড়েননি আফগান সাহসিনী। সেই সাহসের ডানায় ভর করেই দেশ ছেড়ে যান ছদ্মবেশ নিয়ে।  ২০২১ সালে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে কোনওমতে দেশ ছেড়ে ইতালিতে আশ্রয় নেন তাঁরা। ইতালির প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলেসান্দ্রা কাপেলোত্তোর কাছে অনুশীলন করেন তিনি।

রুপো জেতার পর সংবাদমাধ্যমে ফারিবা বলেন, “এশিয়ান গেমসে আমি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেছি। আমার এই  স্বপ্নই আমাকে এই মঞ্চে নিয়ে এসেছে। পদক জয়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি একা নই, আমার পিছনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মহিলা আছেন, যাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কিছু করতে চান। আমি বাইরে বেরোলে ছেলের ছদ্মবেশ ধারণ করতাম। এই রুপোর পদক আফগান নারীদের দৃঢ়তা ও সংগ্রামের প্রতীক। ”