আইএফএ শিল্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে মোহনবাগান ৬-০ গোলে হারালো শ্রীনিডি ডেকান এফসিকে।  শিল্ডের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের দিনেই কলকাতা লিগের ট্রফিও হাতে পেল সবুজ মেরুন। বৃষ্টিভেজা বুধ বিকেলে সেলিব্রেশনের ডাবল ধামাকা মোহনবাগান মাঠে।

 শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে দাপটের সঙ্গে খেলল মোহনবাগান।  হ্যাটট্রিক করলেন ছাংতে।  বাকি গোলগুলি করলেন  অভিষেক সূর্যবংশী, সন্দীপ মালিক,লি এরউইন।  পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে শ্রীনিধির বিরুদ্ধে খেলতে নামে মোহনবাগান।  প্রথম একাদশে জেমি ম্যাকলারেন, আলবার্তো রডরিগেজ, দেজন দ্রাজিচ ও মিগুয়েলকে রেখে দল সাজান পানোস। ছিলেন ছাংতে লিস্টন, অভিষেক সূর্যবংশীরাও। ফলে শুরু থেকে বৃষ্টিভেজা ভারী মাঠে আক্রমণ করতে থাকে মোহনবাগান।

৫ মিনিট ছাংতের কর্নার, মিগুয়েলের হেড শ্রীনিধি গোলকিপারের হাতে। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাগানকে।  ৮ মিনিট দ্রাজিচের মাইনাস, সেখান থেকে অভিষেক সূর্যবংশীর গোলে এগিয়ে গেল মোহনবাগান। ১৫ মিনিটে ছাংতের ক্রস মিগুয়েলের সহজ সুযোগ মিস করেন। ২৪ মিনিটে আদ্রিয়ানোর কাছে সুযোগ ছিল, বিশাল কাইথ দুর্গ রক্ষা করেন। ফিরতি বলে আবারও আদ্রিয়ানোর শট আবারও বিশাল বাঁচায়। ৩৮ মিনিটে ছাংতের থেকে মিগুয়েল বক্সের মধ্যে বল পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেন। ৪০ মিনিটে শ্রীনিধির অধিনায়ককে দীপক টাংরির ফাউল। ফ্রি-কিকের নির্দেশ রেফারির। সেই ফ্রি-কিক থেকে আলবার্তোর চোট লাগে। ৪৪ মিনিটে বাগানের দ্বিতীয় গোল।  লিস্টন থেকে মিগুয়েল ছাংতের গোল। ২-০ গোলে থেকেই সাজঘরে ফেরে মোহনবাগান। 

 

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্বক  প্যানোসের দল।  ৫২ মিনিটে বাঁদিক থেকে ম্যাকলারেনের ক্রস ছাংতের গোল। ৩-০ ৫৯ মিনিটে মিগুয়েলের পাস বক্সের বাঁদিক থেকে বল প্রীতম কোটালের পা ছুঁয়ে ছাংতের কাছে যায়। গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ছাংতে। 


৫৭ মিনিটে ম্যাকলারেনের জায়গায় লি এরউইন।   ৮০ মিনিটে ডানদিক থেকে কিয়ানের পাস সন্দীপ মালিকের গোল। ৮২ মিনিটে ছাংতের ক্রস ডানদিক থেকে লি এরউইনের হেডারে  গোল করেন। সবুজ মেরুন জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই গোল পেলেন লি। এই ম্যাচে ম্যাকলারেনের ফর্ম, একাধিক সুযোগ নষ্ট কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে প্যানোসকে।

এই ম্যাচের বিরতিতে মোহনবাগান দলের হাতে কলকাতা লিগের ট্রফি তুলে দিলেন ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি বলেন, "কলকাতা লিগ জিতে মোহনবাগান আমাদের গর্বিত করেছে। আশা করছি আইএফএ শিল্ডও চ্যাম্পিয়ন হবে মোহনবাগান।" লিগের ট্রফি মাঠ থেকে তাঁবুতে নিয়ে যান সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। দেবাশিস দত্ত বলেন, "আমাদের ট্রফি মন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির থেকে প্লেয়াররা নেয়, প্লেয়াররা হাতে করে ক্লাবে নিয়ে আসে। কোনও কর্তার গাড়ির ডিকিতে আসেন না।"