মহালয়ায় ইডেনে ‘মা আসছে’। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিনে দুর্গাপুজোর সরকারী অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানিক বোধন হতে চলেছে।  মেগা এই অনুষ্ঠান হবে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেমন উপস্থিত থাকবেন তেমনই একাধিক ভিআইপি সেদিন ইডেনে জমকালো অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে চলেছেন। শুক্রবার এই উপলক্ষে সিএবির বিসি রায় ক্লাব হাউসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।

 এই বৈঠকে অংশ নিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রায়, পর্যটন দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে, কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দা। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর  প্রতিনিধিরা ছিলেন। সিএবির পক্ষ থেকে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস,  অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য জয়দেব মুখোপাধ্যায় এবং সুরজিৎ লাহিড়ী এবং সিএবির সিইও চিন্ময় নায়েক।

 এই বৈঠকে মূলত কথা হয়েছে কীভাবে মাঠের কোন জায়গা গুলোতে ব্যবহার করা হবে, ইডেনের পরিকাঠামো নিয়ম আলোচনা হয় কারণ ইডেন বর্তমানে সিএবির অধীনে রয়েছে।  ফলে এই মাঠের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি জিনিস সিএবির জানা। ফলে গোটা অনুষ্ঠানটি সাজানোর আগে সিএবির কাছ থেকে যাবতীয় আপডেট নিল সরকার।

সিএবি জানিয়ে দিয়েছে মাঠের পিচের অংশ ব্যবহার করা যাবে না। মঞ্চের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বেছে দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠে স্টেজ হচ্ছে না। গ্যালারির একটা অংশে হবে। মাঠে শুধু ঢাকি ও শঙ্খ যারা বাজাবেন তারা  থাকবেন। এমনকি নিরাপত্তার জন্য ফুল হাউস হবে না ইডেন। ৩৫ হাজার দর্শক ইডেনে থাকতে পারবেন সেদিন। 

 এই বৈঠকের বড় মনিটরে গোটা অনুষ্ঠানের প্রাথমিক রূপরেখাটি দেখানো হয়। পিপিটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, অনুষ্ঠানের নাম ‘মা আসছে’।  নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয় কারণ প্রধানমন্ত্রী থাকায় নিরাপত্তা আটোসাটো করা হবে যেহেতু কলকাতা পুলিশই ইডেনে ম্যাচের দায়িত্বে থাকে ফলে তাদেরও ইডেন সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা আছে। 

শুক্রবারের গোটা বৈঠকটি  হোস্ট করেন সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, “জমকালো অনুষ্ঠান হতে চলেছে। শুধু ইডেন নয় রেড রোড থেকে অনুষ্ঠানটা হবে। আমরা বড় ম্যাচ আয়োজনের অভি্জ্ঞতা শেয়ার করেছি।মূলত ত্রি পাক্ষিক বৈঠক হল, খুব ভালো আলোচনা হল।”

মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে মোট তিন ঘণ্টার বিশেষ অনুষ্ঠান। তার মধ্যে এক থেকে দেড় ঘণ্টা উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলার দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরার বিশেষ পরিকল্পনা। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করা।  ইডেন গার্ডেন্সে ৩ হাজার ঢাকি ও ৪ হাজার শঙ্খবাদকের সমাবেশের পরিকল্পনা। একযোগে ৩ হাজার ঢাকের বাদ্যি ও ৪ হাজার শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হবে গোটা ইডেন গার্ডেন্স। 

সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই বৈঠকে অংশ নেননি। যদিও তিনি জানিয়েছেন, “আজ গুরুত্বপূর্ণ একটা  বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন আরও অনেকে আসবেন।”