ছাত্র-যুবদের মিছিলে অশান্তি ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। শুক্রবার ধর্মতলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কারও সাথেই ছাত্র সমাজ বা আন্দোলনের সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। এমনকি সদ্য বিধানসভায় পাস হওয়া কড়া ‘গুন্ডাদমন আইন’ এই প্রথমবার এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করল সরকার।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালে অভিযান চালিয়ে গার্ডেনরিচের বাসিন্দা মহম্মদ আজাদ এবং মেটিয়াবুরুজের রাজাবাগানের বাসিন্দা মহম্মদ আফরোজকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ ও গুন্ডার নাম প্রকাশ করেছিলেন, তার মধ্যে এই আফরোজের নামও ছিল। ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাকি ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার আরশাদ আলি, জোড়াসাঁকোর ইরফান খুরশিদ, নম্বর আলমগির, ইমরান আহমেদ, খালিদ রেজা, তিলজলার বাসিন্দা নম্বর মইনুদ্দিন, বেনিয়াপুকুরের জামির আহমেদ এবং কড়েয়া থেকে মহসিন খান ও দীপক ভৌমিক।

প্রসঙ্গত শনিবার বিধানসভায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মিছিলে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা কোনওভাবেই পড়ুয়া বা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। নিট-আন্দোলনের আড়ালে পুলিশকে প্ররোচিত করা এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে জুতো ও বোতল ছোড়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, "পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। তারা কোনো ফাঁদে পা দেয়নি।" পাশাপাশি অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের সতর্ক করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে।" এই ঘটনার তদন্তে হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং নতুন আইনের মাধ্যমে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।