কেন্দ্রের কঠোর শর্তাবলীর জন্য আয়ূষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা অনেকেই পাবেন না। বিকল্প হিসাবে 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা' চালুর ঘোষণা করেছে নবান্ন।  পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষ নিঃশর্তে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। কিন্তু পালাবদলের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই কেন্দ্রের আয়ূষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত চাপিয়ে দেওয়ার ফলে রাজ্যের প্রায় ৩ কোটি মানুষ রাতারাতি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বলয় থেকে ছিটকে যান। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে এই বঞ্চিত অংশের জন্যই নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হলেও নবান্নের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি প্রমাণ করে দিল, সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া নয়, সুবিধাভোগীর সংখ্যা নির্দয়ভাবে ছাঁটাই করাই এই সরকারের আসল লক্ষ্য।

নতুন এই প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তিতে মোট ন’টি কঠিন শর্তের কথা বলা হয়েছে, ।কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকা হলেই সেই বাড়ির কেউই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই শর্ত চাপিয়ে কার্যত লক্ষ লক্ষ মানুষকে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হল। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না বলে জানিয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে এক অজানা আতঙ্ক জিইয়ে রাখা হল এই স্বাস্থ্য প্রকল্পেও। এছাড়া নথিভুক্তকরণ থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভরতি এবং ছুটি—সব ক্ষেত্রেই আধার-ভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক করে সাধারণ মানুষকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পোর্টালের মাধ্যমে নজরদারির নামে সাধারণ রোগীর হয়রানি বাড়বে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

প্রশাসনিক মহল থেকে খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, শুধু তাঁরাই এই সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাবেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই যুক্তির আড়ালেই লুকিয়ে আছে চরম বঞ্চনার রাজনীতি। যে রাজ্য বিনা শর্তে আপামর মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছিল, আজ সেই রাজ্যেই চিকিৎসার অধিকারের জন্য মানুষকে শর্তের অগ্নিপরীক্ষায় বসতে হচ্ছে।