তদন্ত চলাকালীন ব্যক্তিগত তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার গোপন তথ্য, তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় করা প্রশ্নও সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। তবে বিচারপতি রাও মামলাটি শুনতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, যেহেতু আবেদনে পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তাই বিষয়টি উপযুক্ত বেঞ্চে শোনা প্রয়োজন। মামলাটি খারিজ না করে তিনি অন্য বেঞ্চে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক মামলায় কখনও পুলিশ, কখনও সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক। অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীরা তাঁকে কী কী প্রশ্ন করেছেন, তার কিছু অংশ পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে গত ১১ জুন ভবানী ভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় করা প্রশ্নও সংবাদমাধ্যমে চলে এসেছে বলে দাবি তাঁর। শুধু তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য নয়, অভিষেকের ব্যক্তিগত জীবন, বিদেশযাত্রা এবং বৈবাহিক জীবন নিয়েও এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলির সঙ্গে চলতি তদন্তের সরাসরি যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্যে কিছু প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর ও চাঞ্চল্যকর।
অভিষেকের আবেদন, তদন্ত চলাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য বা তদন্তের গোপন বিষয় যাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করা হয়, সে বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিক। একইসঙ্গে তাঁর গোপনীয়তা, মর্যাদা ও সুনামের অধিকার রক্ষার আর্জিও জানানো হয়েছে। এখন নজর অন্য বেঞ্চে এই মামলার শুনানির দিকে।















