সকালটা আর পাঁচটা দিনের মতোই। ঝাড়গ্রাম (Jhargram) শহরের রাস্তায় তখন ব্যস্ততা বাড়ছে। কেউ দোকানের ঝাঁপ তুলছেন, কেউ বাড়ির সামনের আবর্জনা গুছিয়ে রাখছেন। সেই সময় শহরের এক প্রান্তে এসে থামল পুরসভার (Municipality) আবর্জনা সংগ্রহের ভ্যান। ভ্যান থেকে নেমে বাড়ি ও দোকানের সামনে রাখা নোংরা-আবর্জনা তুলতে শুরু করল দু’জন শিশু। সামনে আবর্জনার স্তূপ—দেখে প্রথমে হয়তো চোখে পড়বে না অস্বাভাবিক কিছু। কিন্তু একটু ভালো করে তাকাতেই স্পষ্ট, আবর্জনা সংগ্রহের এই কাজে নিযুক্ত দু’জনই শিশু।

আরও পড়ুন: ২ হাজারের বেশি লেনদেনে লাগবে না অতিরিক্ত চার্জ! সিদ্ধান্ত স্থগিতের পথে কেন্দ্র

শহরকে পরিষ্কার রাখার এই ছবির আড়ালেই তখন সামনে চলে এল এক বড় প্রশ্ন—পুরসভার আবর্জনা সংগ্রহের কাজে শিশুরা এল কীভাবে? রাজ্যে পালাবদলের পর ঝাড়গ্রাম পুরসভার (Jhargram Municipality) প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে ভ্যান গাড়িতে করে প্রতিটি বাড়ি ও দোকানে দোকানে গিয়ে নোংরা-আবর্জনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু সেই আবর্জনা সংগ্রহের কাজেই এবার দেখা গেল দুই শিশুকে। 

শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্বে যেখানে নিয়ম মেনে কর্মী থাকার কথা, সেখানে নাবালকদের দিয়ে এই ধরনের কাজ করানো হচ্ছে কীভাবে? প্রশাসনের নজরের আড়ালে কি চলছে এই কাজ? উঠছে সেই প্রশ্ন। রাজ্যে পালাবদলের পর ঝাড়গ্রামবাসীর প্রত্যাশা ছিল আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল পুর পরিষেবা। কিন্তু শিশুদের দিয়ে বাড়ি-বাড়ি, দোকানে দোকানে আবর্জনা সংগ্রহের এই ছবি কি সত্যিই কাম্য? প্রশ্ন থাকছে ঝাড়গ্রাম পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও।

জেলা তৃণমূলের নেতা সুমন সাহু বলেন, "অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পুর বোর্ড ভেঙে শুধুমাত্র গেরুয়া লাইট লাগালে হবে না, এইসব দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া একান্তই জরুরী।" তবে এই নিয়ে পুরসভার তরফে মেলেনি কোন প্রতিক্রিয়া।