যে দলের নাম এতদিন বাংলা কেন কোনও সংবাদ মাধ্যমে কেউই প্রায় জানতেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সেই NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন ২০ সাংসদ। কিন্তু মাত্র ৪-৫ মাসেই কি মধুচন্দ্রিমা শেষ? নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাত? বৃহস্পতিবার, কলকাতার এজেসি বোস রোডের হোটেলে (Hotel) বৈঠকে ডেকেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। কিন্তু সেখানে ছিলেন মাত্র ১০জন। ৫০ শতাংশই অনুপস্থিত।
কেন তাঁদের সাংসদপদ বাতিল করা হবে না? কেন দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়বেন না? ২০ এনসিপিআই সাংসদকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রথমে লোকসভার অধ্যক্ষ ও পরে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানান তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সুপ্রিম নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের নোটিশ (Notice) দিতে শুরু করেন ওম বিড়লা। কিন্তু নিজেদের অবস্থান আর জানিয়ে উঠতে পারছেন না দলবদলুরা। আরও ১৪ দিন সময় চাই! বৃহস্পতিবার, ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন দলবদলু NCPI-তে সাংসদরা। কোন দিকে আছেন তৃণমূল (TMC) ত্যাগী ২০ সাংসদ? সেটা আর জানিয়ে উঠতে পারছেন না তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে রণকৌশন ঠিক করতে বৈঠক ডেকেছিলেন সুদীপ। কিন্তু সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন না কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মালা রায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, কালীপদ সোরেন, দেব এবং অসিত মাল। সুদীপ ছাড়া ছিলেন শর্মিলা সরকার, জগদীশ বসুনিয়া, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং অরূপ চক্রবর্তী।
কেন এলেন না বাকি ১০ জন? অরূপ চক্রবর্তী জানান, “কেউ আমেরিকা গিয়েছেন, কারও ছেলের শরীর খারাপ, কারও অন্য মিটিং রয়েছে।” বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলার দাবি, “যাঁরা আসেননি, তাঁদের সঙ্গে কোনও মনমালিন্যের ব্যাপার নেই।”
আরও পড়ুন: কোন দলে আছেন? জানাতে আরও ১৪ দিন সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি NCPI-তে সাংসদদের
প্রথমে তৃণমূল ছাড়েন কাকলি। তাঁর হাত ধরেই একে একে দলবদল। এনসিপিআইতে যোগ। তাহলে কী কাকলিই নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সুদীপ এসে জায়গা দখল করাতেই গোঁসা? না কি ইতিমধ্যেই চিড় ধরেছে ২০জন নেতার দলে? সূত্রের খবর, কাকলিদের বিজেপিতে মিশে যাওয়ার চেষ্টার বিরোধী অনেকেই। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সাংসদরা কখনওই এই প্রস্তাবে রাজি নন, ফলে ভাঙন ধরছে দলের একতায়।















