বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের মূল স্রোতে প্রত্যাবর্তনের জন্য ১৫ দিনের চরমসীমা বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবহেই এ বার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল ও বিতর্ক উসকে দিলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। তাঁর দাবি, তিনি এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান খোদ মমতার পাশেই। তবে রথীনের এই দাবি ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দলনেত্রীর বার্তায় সাড়া দিয়ে তিনি অবস্থান বদলাচ্ছেন, নাকি রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই এই কৌশলী বার্তা?
তবে রথীনের অবস্থানকে একহাত নিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর তীব্র কটাক্ষ, “এটা হাঁসজারু বিবৃতি, হাঁসজারু অবস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই রয়েছেন। মমতা যখন কোথাও ছুটে গিয়েছেন, তখন সঙ্গে যাননি কেন? যেখানে সই করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করে করেছিলেন? অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে আর কর্মীদের মন ভোলাতে বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। আসলে বিশ্বাসঘাতক শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।” রথীনকে বর্ষীয়ান নেতা বলে উল্লেখ করে কুণালের চ্যালেঞ্জ, মুখে যা বলছেন, তিনি সত্যিই দলনেত্রীর সঙ্গে আছেন কি না তা কাজে প্রমাণ করে দেখাতে হবে।
এদিকে নিজের এলাকার প্রসঙ্গ টেনে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক জানান, এলাকায় খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে তিনি মানুষের সঙ্গে রয়েছেন এবং ব্যক্তিগত ভাবে তৃণমূলেই আছেন। তাঁর কথায়, “কে বলেছে আমরা মমতার সঙ্গে নেই? আমরা মমতার সঙ্গেই আছি।” তবে দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নে তাঁর যুক্তি, “নতুন কোনও কর্মসূচি না থাকলে তা কীভাবে প্রমাণ করব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলন করলে আমি সেখানে তৃণমূলের কর্মী হিসেবেই হাজির থাকব।”
‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’ কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির প্রসঙ্গে বিধায়কের বক্তব্য, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই।” তাঁর মতে, সমস্যা মূলত পরিষদীয় স্তরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, “বিধায়করা ঋতব্রতকে এলওপি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পার্টি বড় নাকি বিধায়করা বড়, সেটা আমার জানা নেই। তবে স্পিকার মান্যতা না দিলে আমাদের কী-ই বা করার আছে!”
উল্লেখ্য, দলের ভাঙনের পর ঋতব্রতর নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়কের যে শিবির তৈরি হয়, সেই তালিকাতেই নাম ছিল রথীনেরও। বর্তমানে দলের নাম, প্রতীক ও তহবিল সংক্রান্ত বিরোধ নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন। এই জটিল পরিস্থিতিতে রথীনের মন্তব্য নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “গোটা বিষয়টা এখন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। রথীনদা তো আমাকে কিছু বলেননি। আগে দেখি, শুনি, তারপর বলব।”















