মুর্শিদাবাদের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারকে তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ‘ডবল ইঞ্জিন ডিজাস্টার’ বা ‘ডবল ইঞ্জিন বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ ও কড়া পোস্ট করেন অভিষেক। সেখানে তিনি রেলের নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রের জবাবদিহি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
মুর্শিদাবাদে স্কুল পড়ুয়াদের গাড়ির সঙ্গে ট্রেনের এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অভিষেক। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লেখেন, মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। শোকার্ত পরিবারগুলির প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
এর পরেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, যখন যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে স্কুল ছাত্র বোঝাই গাড়ির ধাক্কা লাগে এবং নিরীহ প্রাণ চলে যায়, তখন জবাবদিহি চাওয়াটা কি স্রেফ ভুলে যাওয়া কোনও ভাল গুণ হয়েই থেকে যাবে? এই বারবার ঘটে চলা ট্র্যাজেডির উত্তর কে দেবে? নাকি বিজেপি সরকার তাঁদের দায়িত্ববোধ সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়েছে? রেল ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে অভিষেক এই দুর্ঘটনাকে সিস্টেমের ব্যর্থতা হিসেবেই দেগে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিপর্যয় কি রেলের পদ্ধতিগত চরম গাফিলতির ফল? সিগন্যালিং ব্যবস্থার কোনও বড়সড় গলদ? নাকি প্রশাসনের আত্মতুষ্টির জেরে রেলযাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বারবার বলির পাঁঠা বানানোর যে বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এটা তারই খেসারত?
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বিচার দাবি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে যে স্তরেই গাফিলতি থাকুক না কেন, দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। বিজেপির বহু প্রচারিত ডবল ইঞ্জিন স্লোগানকে তীব্র কটাক্ষ করে নিজের পোস্টের শেষে অভিষেক লেখেন, বাংলার মানুষের এমন এক সরকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে যা তাঁদের জীবন রক্ষা করবে। কেন্দ্রের ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা আর মেনে নেওয়া যায় না। এই ডবল ইঞ্জিন সরকার আসলে ডবল ইঞ্জিন বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই নয়। মুর্শিদাবাদের এই দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলের গেটম্যানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সে মদ্যপ ছিল কি না তার মেডিকেল টেস্টের কথা বলেছেন।
















