নিটের প্রশ্নফাঁস, ছাত্র বিক্ষোভ, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন, সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ নিয়ে চলতে থাকে বিতর্কের মধ্যেই আরও একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর। ওড়িশা ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস (OUHS)-এর স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্রের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে বিজেপি-র ডবল ইঞ্জিনের সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। স্যোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “গতকাল ছিল NEET। আজ ওড়িশা PG মেডিকেল পরীক্ষা। আগামীকাল হয়তো অন্য কোনও পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়- বরং এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য।“

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ে। চাপের মুখে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র। এদিন সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন বিল পাশ করায় কেন্দ্র। কিন্তু তার পরেও থামছে না প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি। ২৭ জুলাই ওড়িশায় স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল পরীক্ষা চলাকালীন ২০২৩-২৬ এমএস/এমডি ব্যাচের জেনারেল সার্জারির থিওরির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।  পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রশ্নপত্রের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেরহামপুরের এমকেসিজি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক মেডিক্যাল ছাত্রের তৈরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছবিগুলি শেয়ার করা হয়েছিল। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন নির্দিষ্ট কিছু ফোন নম্বর থেকে উত্তরপত্রও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেন অভিষেক। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 
“অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর! 
গতকাল ছিল NEET। আজ ওড়িশা PG মেডিক্যাল পরীক্ষা। আগামিকাল হয়তো অন্য কোনও পরীক্ষা।
প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়- বরং এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁস লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়, যাঁরা দিনের পর দিন, এমনকী বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও লেখাপড়া করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অনিয়মের শিকার প্রতিটি পরীক্ষার পিছনে থাকে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করা একজন শিক্ষার্থী এবং একটি পরিবার—যারা উন্নত ভবিষ্যতের আশায় নানা ত্যাগ স্বীকার করে।
যে সরকার পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা রক্ষা করতে পারে না, তারা ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবি করতে পারে না।“ 

এর পরেই বিজেপির নয়া ভারত স্লোগানকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। লেখেন, 
“বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এক "নতুন ভারত"-এর। অথচ তার বদলে তারা উপহার দিয়েছে এক 'New Normal' পরিস্থিতি: প্রশ্নপত্র ফাঁস, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, তদন্ত, লোক দেখানো পদক্ষেপ—এবং এরপর আবার সেই একই চক্রের পুনরাবৃত্তি।
এই সরকার দায় স্বীকার করার আগে আর কতজনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে?
জবাবদিহির বিষয়টি কেন সবসময় সবশেষে আসে?
আমাদের আর কত ব্যর্থতা দেখতে হবে?“

ওড়িশায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরে কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, ওইউএইচএস একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।