বিজেপি (BJP) বিধায়ক চন্দনা বাউরির হম্বিতম্বির পরে মৃত আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের (Rupma Mandol) বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার, বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ভালুকাথোল গ্রামে রুম্পার বাড়ি যান তৃণমূল (TMC) সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen) ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। শাসকদলকে নিশানা করে কুণাল বলেন, আমরা পাশে এসে দাঁড়িয়েছি কিন্তু বিজেপি কোনও লোককে এই গ্রামে এই পরিবারের পাশে দেখা যায়নি। দোলা সেন বলেন, দলনেত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশে রুম্পার শোকার্ত পরিবারের রয়েছেন তাঁরা। ঘটনার পর ঋতব্রত-তৃণমূলের কেউ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না আসায় তাঁদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন কুণাল-দোলা।
রুম্পার পরিবারের পাশে নেই বিজেপি-ঋতব্রত শিবির! দলনেত্রীর নির্দেশে মৃত আশাকর্মীর বাড়ি গিয়ে তোপ দাগলেন দোলা-কুণাল
ঘটনার পর ঋতব্রত-তৃণমূলের কেউ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না আসায় তাঁদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন কুণাল-দোলা। বলেন, দলনেত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশে রুম্পার শোকার্ত পরিবারের রয়েছেন তাঁরা।
Sponsored



সম্প্রতি বাঁকুড়ায় আয়ুস্মান প্রকল্পের ই-কেওয়াইসির (E-KYC) কাজ নিয়ে আশাকর্মীকে তীব্র ভর্ৎসনা করতে দেখা যায় শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে (Chandana Bauri)। সেই ঘটনার পরে পরেই বাড়িতে মৃত্যু হয় আশাকর্মী রূম্পা মণ্ডলের। এরপরই রাজ্য জুড়ে আশাকর্মীদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। দাবি ওঠে মৃত রূম্পার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ঘটনার পরে মৃত আশাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে সমবেদনাও জানালেও ক্ষমা চাননি বিজেপি বিধায়ক।
এদিন রুম্পার বাড়িতে যান দোলা, কুণালরা। পরিবার সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি বেশ খানিকক্ষণ কথা বলেন তাঁরা। বেরিয়ে ওই আশাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনার জন্য অতিরিক্ত কাজের চাপকে দায়ী করে এই ঘটনায় বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে নিশানা করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। একইসঙ্গে একহাত নেন ঋতব্রতপন্থীদেরও। 
কুণাল বলেন, আশা কর্মীদের উপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে সেই চাপ লাঘব করতে হবে। বিজেপি কোনও লোক এই গ্রামে এই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা করে কুণাল বলেন, যাঁদের বিজেপি রাজ্য বিধানসভায় তথাকথিত বিরোধীদলের স্বীকৃতি দিয়েছে, যাঁরা বিজেপির দালাল তাঁরা আজকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন নিজেদের ব্যক্তিগত সেটিং ইস্যুতে। এটাই হচ্ছে দুটোর তফাৎ।
দোলা সেন বলেন, "আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম ফিলাপের ওদের খুব তাড়া। এসআইআর নিয়ে যেমন বিএলওদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল ঠিক সেই ভাবেই অকারণে আশা কর্মীদের ওপর এই নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই অকারণে খুব মর্মান্তিকভাবে আশাকর্মীদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে- যে আয়ুষ্মান ভারতের ই কেওয়াইসি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। মা-শিশুদের নিয়ে আশা কর্মীদের প্রচুর কাজ। কিন্তু ই কেওয়াইসি সেখানে কম্পিউটার অনলাইন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের একটা কাজ। সেটার প্রশিক্ষণ না দিয়ে ওই একদিনের একটা কিছু ট্রেনিং করে যিনি আগে থেকে এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না কিন্তু তিনি আশা কর্মী হিসেবে খুব ভালো দীর্ঘ দিন ধরে ২০০৭ থেকে কাজ করছেন তিনি কি করে এটা করবেন। যে পারে না সে যদি নিজের পরিবারের কারো সাহায্য নেয় তাতেও নাকি আপত্তি করা হয়েছে। তার ওপর নেট এবং নেটওয়ার্ক দুটোরই প্রবলেম তাই চাইলেও আমি ই কেওয়াইসি তাড়াতাড়ি করতে পারব না। এখানকার বিধায়ক যেটা বলেছেন সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আশাকর্মীদের বলা হচ্ছে যে তাঁরা নাকি চুরি করে চাকরি পেয়েছেন।"
দোলা-কুণাল দুজনেরই জানান, রাজনৈতিক কারণে নয়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে শুধুমাত্র শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন তাঁরা।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













