বারুইপুরের পর এবার পূর্ব বর্ধমানে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে দেওয়ানদিঘী থানার অন্তর্গত পালিতপুরের ক্যানেলপাড় মাঠ থেকে এক আদিবাসী মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার পুলিশ। ওই মহিলাকে ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বামী ও পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বিজেপি শাসিত বাংলার নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মৃতার পরিবার জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে তাঁর স্বামী এবং এলাকারই এক যুবক—শেখ আইজুল বাড়ির পাশের মাঠে বসে মদ্যপান করছিলেন। বিকেল ৪টে নাগাদ ওই বধূ বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে উঠে স্বামী বাড়ি না ফেরায়, তাঁকে খুঁজতে বের হন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর স্বামী বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে হদিশ মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে মাঠের পাশে ওই মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। ঘটনার পিছনে শেখ আইজুল আছে বলে মৃতার ভাইয়ের দাবি। কারণ, সোমবার মদের আসরে সে উপস্থিত ছিল এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই সে বেপাত্তা। খবর পেয়ে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের অনুমান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শেখ আইজুলের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ।
এই ঘটনা সামনে আসতেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসার মাত্র দু'মাসের মধ্যে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে দাবি করে অভিষেক আরও লেখেন, "মহিলারা এখনও আতঙ্কের মধ্যে বাস করছেন। পরিবারগুলো বিচার চাইছে। ক্ষমতায় আসার মাত্র দু'মাসের মধ্যেই এই দশা! বিজেপি-র ফাঁপা স্লোগান মুখোশহীন হয়ে পড়েছে। এবার কি কোনও কমিশন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসবে না? নাকি নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এই 'গ্যারান্টি'র কথাই বলেছিলেন?"
















